• আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

পদত্যাগ করা হেফাজত নেতা আব্দুর রহিম কাসেমি গ্রেফতার


❏ মঙ্গলবার, মে ৪, ২০২১ চট্টগ্রাম

সময়ের কণ্ঠস্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও নাশকতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করা সংগঠনটির জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের ভাদুঘর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার সাবেক শিক্ষক।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একটি দল শহরের ভাদুঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো নাশকতার ঘটনা তদন্ত করে আব্দুর রহিম কাসেমীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

জেলা পুলিশের অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তাণ্ডবের ঘটনার মূল হোতা এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কাসেমী। তিনি হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে সরকার উৎখাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাসহ আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হেফাজতের তাণ্ডবে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচার চেয়ে গত ২৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রহিম কাসেমী।

ওইদিন সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারেনা। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান কাসেমী।