ফুলবাড়ীর চরাঞ্চলে ভুট্টার ব্যাপক চাষ


❏ বৃহস্পতিবার, মে ৬, ২০২১ ঢাকা

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর চরাঞ্চলসহ ৬টি ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষিরা ভুট্টা চাষের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন এ বছরও।

যে সব চাষিদের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমি বড়র্গা নিয়ে ভুট্টা চাষ করে জীবিকা-নির্বাহ করছেন। চলতি বোরো মৌসুমে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ৬টি ইউনিয়নে কৃষকের সাড়ে ৩ থেকে চার হেক্টর জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে খেতেই পুড়ে গেলেও এবছর ভুট্টা খেতে নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে মাঠে। কোন জমি আর পতিত নেই বিস্তৃর্ণ কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। যেন চারিদিকে ভুট্টার গাছের মোছাঁগুলো সবুজ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ জুড়ে। যেন বাতাসে মোছাঁগুলো মনের আনন্দে দুলছে। এখন মাঠ জুড়ে সবুজ রঙে ভুট্টার মোছাঁ গুলো সাজিয়ে তুলিছে প্রকৃতির অপরুপ রুপ। চাষিরা ভুট্টার আগাম চাষ করে বদলে দিয়েছে চাষিদের ভাগ্যের চাকা। ভুট্টা চাষ করে স্বালম্বী হয়েছেন চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারও কৃষক পরিবার।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ,শিমুলবাড়ী ,ফুলবাড়ী,বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে ধরলাা,বারোমাসিয় ও নীলকমল নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভুট্টা চাষে খরচ কম লাভ বেশি। ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য ও ভুট্টার গাছগুলো খরি হিসাবে ব্যবহার করেন চাষিরা। তাই দিনদিন চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে ঐ সব এলাকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার তেমন দেখা মেলে না। সেখানকার অধিকাংশ ভুট্টা কৃষক কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগী না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে। ঐ এলাকার চাষিরা ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ-সার স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করে চাষাবাদ করেন। কৃষকরা জানান-প্রতি বিঘা ভুট্টা চাষ করতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘা কাঁচায় ৪০ থেকে ৫০ মন ও শুকান ৩০ থেকে ৩৫ মন ভুট্টা আসে। বর্তমানে কাঁটাটা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং শুকানটা ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা বাজার দরে ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিমফুলমতি কান্দাপাড়া চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষি মজিবর রহমান , শাহার আলী, ইসমাইল হোসেন ও আমির হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভুট্টার ফলন ভাল হয়েছে। তবে আমাদের দুঃখ একটাই ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগীতা ছাড়াই আমরা প্রতেকেই ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে আসছি। আশা করছি ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ভুট্টা ঘরে তুলতে পারবো। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে বীজ-সারসহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগীতা পেলে ভুট্টা চাষ করতে আমাদের অনেক বেশি সুবিধা হতো।

একই এলাকার ভুট্টা চাষি জাবেদ আলী জানান, নিজস্ব জমিতে তিন বিঘা ও বড়র্গা নিয়েছেন তিন বিঘা মোট ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। এবছর দুই বিঘা ভুট্টা খেতে পরীক্ষামূলক পাটও চাষ করেছেন। তিনি কোনদিন এই চরাঞ্চলে কৃষি অফিসের কারও দেখা পাইনি। ২০ বছর ধরে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল জমিতে চাষবাদ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সচ্ছল ভাবে জীবন-যাপন করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশীদ জানান, এ অঞ্চলের মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে এ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ৯০০ হেক্টরসহ মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে চাষিরা ভুট্টা চাষ করেছেন। চাষিদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করে চরাঞ্চলসহ মোট ৬০০ জন ভুট্টাচাষিদের বীজ-সারসহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি ব্লকে তিনজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্বপালন করছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তারা বিশেষ নজরে চরাঞ্চলের কৃষকদের খোঁজ-খবর ও বিভিন্ন পরামর্শ মূলক কাজ করে করবেন। কৃষকদের খোঁজ-খবর ও কোন ধরণের সেবা পায়নি। যদি কোন কৃষক অভিযোগ করে তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ চাষি ক্ষেতের ভুট্টা ঘরে তুলবেন। সেই সঙ্গে ভুট্টার দাম ভাল পাওয়া চাষিরা এবছরও লাভবান হবেন বলে আশা করছি।