🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

বিদেশে খালেদার চিকিৎসার আবেদনে ইতিবাচক সরকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
❏ বৃহস্পতিবার, মে ৬, ২০২১ জাতীয়, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার পরিবার তার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অত্যন্ত মানবিক। আমরা আবেদনটি ইতিবাচকভাবে দেখছি।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিদেশ যেতে হলে কোর্টের কোনো…লাগবে কিনা সেটার ব্যাপার আছে। সেই জন্য আমার আইনমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে (আবেদন) পাঠিয়ে দিয়েছি। তার ‘‘কমেন্টস’’ আসুক। তারপর আমরা…অবশ্যই আমরা এটাকে ‘‘পজিটিভলি’’ দেখছি। ‘‘পজিটিভলি’’ দেখছি বলেই আমরা তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। সে যাতে উন্নত চিকিৎসা পায় তার পছন্দমতো তার ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।’

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লিখিত আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। পরে তা আইনমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়।

গত ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বসুন্ধরায় এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান (চেস্ট), হৃদযন্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথাতেও ভুগছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না তিনি।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজা’য় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীরে নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন পার হওয়ার পর নমুনা পরীক্ষা করা হলে পুনরায় ফল পজিটিভ আসে।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।