🕓 সংবাদ শিরোনাম

যেকোনো সময় সারা দেশে ‘শাটডাউন’ ঘোষণা : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীসারা দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনের’ সুপারিশশাহজাদপুরে আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে আদিবাসী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগব্র্যাক-এশিয়ার পর ঢাকা ব্যাংক থেকেও নিষিদ্ধ ইভ্যালি!বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা একদিনে সব রেকর্ড ভেঙেছেসন্ধ্যা হলেই সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হবে মির্জাপুর পৌরসভা২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ছাড়াল ৬ হাজার, মৃত্যু ৮১ জনেরচুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কাদেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রীসিনহা হত্যা মামলার পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পন

  • আজ শুক্রবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৫ জুন, ২০২১ ৷

জীবিকার তাগিদে বৃদ্ধ বয়সেও থেমে নেই গিয়াস উদ্দিন

Jamalpur news
❏ শুক্রবার, মে ৭, ২০২১ ফিচার

রকিব হাসান নয়ন , জামালপুর প্রতিনিধি: সকাল থেকে সন্ধ্যা, জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা এক সংগ্রামী মানুষ জামালপুরের গিয়াস উদ্দিন শেখ। সাদা চুল-দাঁড়িতে জীবনের প্রায় শেষ ধাপে তবুও তার থেমে নেই চলার গতি। বয়সের ভারে শরীরের চামড়া ঝুলে পড়েছে। ৭০ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিন থাকেন জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকায়। অভাবের তাড়নায় জীবনের তাগিদে মাছের পোনা নিয়ে শহর ও গ্রামের আনাচে কানাচে ছুটে বেড়ান বিক্রির জন্য।

১৮ বছর আগে একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান । তারপর নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি কেন্দুয়া খামারবাড়ি এলাকায় চলে আছেন। গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি ছিলো মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামে।

জীবনের প্রয়োজনে যেন গরমের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করছেন গিয়াস উদ্দিন। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে মাছের পোনা নিয়ে আসছেন বিক্রির জন্য ।

বৃহস্পতিবার (৬ মে ) মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর গ্রামে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। কেন্দুয়া থেকে মাছের পোনা নিয়ে ছবিলাপুর গ্রামের আব্দুর হাইরে পুকুরে পোনা দিতে যাচ্ছে। হাজীপুর বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এসেছিলেন।

প্রতিদিন কত টাকার পোনা বিক্রি হয় জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, দিনে দুইশ আড়াইশো টাকা লাভ হয়।আমি তো বেশি পোনা নিয়ে টানতে পারি না। যেটুকু টানতে পারি সেই টুকু নেই। যা ইনকাম অয় তা দিয়ে কষ্ট কইরে চলতে হয়।

ছোটবেলা থেকেই পেটের ভাতের জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ করছি। অন্যের জমিতে করছি কৃষিকাজ। আজ জীবনের শেষ বেলায়ও ভার টানতে হচ্ছে। আফসোস, দুঃখ আমার পিছু ছাড়ল না। এখন আমার একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড হলে একটু ভাবে চলতে পারতাম। চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে কয়েকবার বললাম কিন্তু আমার কার্ড দিলো না। দুইজন মানুষের ওষুধসহ সাংসারিক খরচ চালাতে কত যে কষ্ট হয় তা বোঝাতে পারবো না। তবুও যতদিন বেঁচে আছি কারো কাছে হাত পাতবো না। সরকারের কাছে আমার চাওয়া জন্য একটা কার্ড করে দেয়।

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকাটা রণক্ষেত্রে টিকে থাকার চেয়েও কঠিন। রবিঠাকুরের এ কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় গিয়াস উদ্দিনের জীবনে।

কেন্দুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মাহবুবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি। গিয়াস উদ্দিন আমার কাছে মাস দুই আগে এসেছিল। কিন্তু তখন‌ বয়স্ক ভাতার কার্ড আবেদন সময় শেষ। আমি গিয়াসউদ্দিনকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবো।