ডোপটেস্ট রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্ত

Madaripur news
❏ শুক্রবার, মে ৭, ২০২১ ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার , মাদারীপুর: দূর্ঘটনার শিকার ওই স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্ত ছিলেন। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করা ডোপটেস্টে এ তথ্য জানা গেছে। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত ছিল স্পিডবোট চালক শাহ আলম(৩৮)।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ডোপ টেস্টে স্পিডবোট চালকের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি এমফিটামিন (ইয়াবা) ও মারিজুয়ানা (গাঁজা) সেবনে আসক্ত। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

দুর্ঘটনার পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চালককে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে প্রেরন করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের নজরদারিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৬ জন যাত্রী। এতে আহত হন স্পিডবোটের চালকসহ পাঁচজন। দুর্ঘটনার পরে স্পিডবোটের চালক মো. শাহ আলমকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই চালকের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। আহত ওই চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডোপ টেস্টের কিট মাদারীপুরে না থাকায় ঢাকা থেকে কিট সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্পিডবোটের চালক শাহ আলম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাতা ঈদগাহপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করে গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন শাহ আলম। প্রায় ১৮ বছর আগে শিমুলিয়ায় আসেন কাজের সন্ধানে। পরে যোগ দেন স্পিডবোট চালক হিসেবে। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। তাঁদের দুই সন্তান থাকে নানার বাড়িতে। শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় শাহ আলম ভ্রাম্যমান বসবাস করতেন। নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা এখানে তাঁর নেই।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার আগে চালক মাদকসেবন করেছেন। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ডোপ টেস্ট থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে। পাশাপাশি কোনো মাদকাসক্ত যেন স্পিডবোটচালক না হতে পারেন, বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ, স্পিডবোটের রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স থাকতেই হবে। এসব না থাকলে এখানে আর কোনো অবৈধ নৌযান চলতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্পিডবোট চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি নিয়মিত তাঁদের ডোপ টেস্ট করতে হবে। যাঁরা মাদকাসক্ত হবেন বা ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসবেন, তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা চরজানাজাত নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আল আমিন বলেন, ‘মামলা হওয়ার পরে আমরা অভিযুক্তদের বাড়িতে রেইড দিই। কিন্তু আসামিরা কেউ বাড়িতে নেই। তাঁদের ধরতে পিআইবি, র‌্যাব, নৌ পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোরে শিমুলিয়া থেকে আসা একটি স্পিডবোট শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে এসে নোঙর করে রাখা একটি বালুবোঝাই নৌযানের সাথে ধাক্কা লেগে ২৬ যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ওই দিন রাতে মালিক, ইজারাদারসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করে নৌ পুলিশ।