“সরকার হকগোলিরে কত কিছু দেয়, আমিতো কিছু পেলাম না-রে বাহে”

Hazera BiBi
❏ শনিবার, মে ৮, ২০২১ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: স্বামী পরিত্যক্তা হতভাগা হাজেরা বিবি (৭২)। মানুষের দুয়ারে হাত পেতে দু’পয়সা জুগিয়েই চলে তাঁর জীবন। সেই যুবতী বয়সেই স্বামী নুরুদ্দিন ছেড়ে চলে যায় তাঁকে। তাইতো মনের কষ্টে আর কোনদিন ঘর বাঁধেনি কারো সাথে।

বহুকাল নিঃসন্তান এই বৃদ্ধা বসবাস করতেন ফরিদপুর শহরের রেলস্টেশনের একটি বস্তিতে। কিন্তু সময়ের অমোঘ নিয়মে সেখানেও হয়নি তাঁর স্থায়ী বসবাস। মানুষজন তাঁড়িয়ে দেয় তাকে। এখন তিনি শহরের বদরপুরের তেলের পাম্পের পাঁশের একটি ঝুঁপড়ি ঘরে কোনো রকম মাথা গুঁজেন। আবার মাঝে মাঝে রাত কাটে তার কোনো এক পথে কিংবা প্রান্তরে।

বৃদ্ধা হাজেরা বিবি বলেন, “বাহে, পৃথিবীতে আমার কেহ নাই। বড় হতভাগা আমি। দু’বছর আগে মানুষের দুয়েরে দুয়েরে কাম-কাজ করে খাইতাম। এহন কাম-কাজ করতে পারিনে, তাইতো কেউ খাওয়োনও দেয়না। তাইতো বাঁচুনের লাইগা এহন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাইতা খাই। তিনি বলেন, “এহন আমি ভালা করে হাঁটতে পারিনে-রে বাহে। তবু বাঁচুনের জন্যে পথে জিরিয়ে জিরিয়ে লাঠি ভর দিয়ে মানুষের দুয়ারে হাত পাতি।”

হাজেরা বিবি আক্ষেপ করে বলেন, “হুনছি সরকার হকগোলরে কত কিছু দেয়। আমি তো জীপনে (জীবনে) কিছু পেলাম না-রে বাহে। কত মানসের (মানুষের) কাছে গেছি। সবাই হুদু কতাই দেয়, কেহ আর কতা রাহেনা। তার লাইগা, আল্লার কাছে বিচার থুঁইছি যদি কারো দয়া অয়।”

ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাসুম রেজা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যারা গৃহহীন, ভূমিহীন ও ছিন্নমূল তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা। তার পেক্ষিতে ইতোমধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ছিন্নমূল মানুষদের জন্য ঘরের বরাদ্দ দিচ্ছি। আমরা খাস জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে তা নির্মাণ করছি।

ইউএনও বলেন, আমাদের উপজেলায় উপকার ভোগীদের যাঁচাই-বাছাই করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স কমিটি আছে। আমরা এর আগেও যে বরাদ্দ আসছে তখন আমাদের অনুকূলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন পোর্টালে এবং বিভিন্ন জায়গায় বলেছিলাম, কারো যদি কেউ এরকম অসহায় ছিন্নমূল (হাজেরা বিবি) সন্ধানে থেকে থাকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে।

তিনি বলেন, তারপরও যেহেতু আমরা আপনার মাধ্যমে হাজেরা বিবির ইনফরমেশন পেলাম। যেটা আমাদের জানা ছিলোনা। আমাদের দ্বিতীয় ধাপের যে ঘরগুলো আসছে, সেখানে আমরা হাজেরা বিবির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারবো এবং পাঁশাপাশি ওনার যদি খাবার-দাবারের কোনো সংকট থাকে সেটিও আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করবো।