• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

বগুড়ার শেরপুরে মাচায় দুলছে হলুদ তরমুজ

Bogura Pic
❏ রবিবার, মে ৯, ২০২১ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: ভ্যাপসা গরমে শরীর থেকে ঝড়ে পড়া ঘামের কারণে সৃষ্টি হওয়া শারীরিক পানি শূন্যতা রোধ করতে এমনিতেই তরমুজের জুড়ি নেই, তার ওপর নতুন জাতের তরমুজ দেখে সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

তরমুজের গায়ের রং হলুদ হলেও ভেতরে একদম অন্যসব তরমুজের মতোই লাল এবং স্বাদও তুলনামূলক বেশি। রাস্তার পার্শ্বে আবাদ হওয়ায় প্রতিদিনই শত শত লোকজন দেখতে আসছেন এবং তরমুজ ক্রয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বড়াইদহ গ্রামের আব্দুস সালাম পেশায় শিক্ষক হওয়ার পরও তিনি একজন কৃষি প্রেমিক। রসালো ফল ‘হলুদ জাতের’ ও ‘কালো জাতের’ তরমুজ চাষ করে এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে গাছে ফল দেখে, ভালোই লাভ হবে এমনটাই আশা করছেন আব্দুস সালাম।

সরেজমিনে দেখাগেছে, শিক্ষক সালাম ৮৬শতক জমিতে উন্নত জাতের তৃপ্তি, ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট জাতের তরমুজ চাষ করেন ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে। তরমুজগুলো পলি মাটিতে লাগানোর পর গাছ গুলোতে ফল আসার আগ মূহুর্তে বাঁশের মাচায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মাচায় হলুদ ও গাঢ় সবুজ তরমুজ ঝুলছে। হলুদ রংয়ের তৃপ্তি জাতের তরমুজ, গাঢ় সবুজ ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট এসব উন্নত জাতের তরমুজ গুলো মাঁচার নিচে ঝুলছে।

চাষী আব্দুস সালাম জানান, তার বিভিন্ন ধরণের ফলের বাগানও রয়েছে যেমন, মালটা, পেয়ারা, ভিয়েতনাম নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগান, তবে নতুন জাতের এই তরমুজ চাষ করতে তিনি আরো উৎসাহিত বোধ করছেন। কারণ শেরপুরে তিনিই প্রথম মাচায় তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। গত বছর করোনা কালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় ইউটিউব দেখে মাচায় তরমুজ চাষ করে পর্যাপ্ত পরিমান ফল আসলেও তরমুজ বাজার জাত করার মাঝামাঝি সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকশান গুনতে হয়েছে।

আব্দুস সালাম আরো জানান, শুরু থেকে জমিতে জৈবসার অন্যান্য সার প্রয়োগের পর বেড তৈরি করে পুরো বেড পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছ রোপণ করেছেন। বর্তমানে এই ফল গুলির বয়স এখন ৫০ দিন। এরই মধ্যে ফল গুলোতে নেটিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফল গুলি ৬০ দিনের মাথায় প্রায় ৩/৪ কেজি ওজন হলে পরিপক্ক হবে এবং তা বাজারজাত করার উপযোগী হবে। তিনি ৮৬ শতক জমিতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেছেন এবং সেখান থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রয় করবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে লাভবান হবেন। এই তরমুজগুলো ৪৫ থেকে ৫৫টাকা কেজি দরে বাজার মূল্য হবে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা।

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, নতুন জাতের ফসল হিসেবে আমরা কৃষকের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি। যেন কোন রোগবালাই ধরতে না পারে। চাষী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

শেরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলায় এবার নতুন ফসল হিসেবে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কিন্তু হলুদ জাতের তরমুজ এই প্রথম চাষ করেছেন আব্দুস সালাম। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছি এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করছি আগামী বছর এই জাতের তরমুজ চাষ আরো বাড়বে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।