🕓 সংবাদ শিরোনাম

কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদেরকরোনাকালে নার্সদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন মহাপরিচালকপ্রকাশ্যে একই পরিবারের ৩ জনকে গুলি করে হত্যা, হামলাকারী এএসআই আটকযমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হবে ৬ মাসের মধ্যেপাবনার চাটমোহরে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যুআশুলিয়ায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পুলিশের টিয়ার শেল-জলকামান, নিহত ১দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যানেতানিয়াহুর জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড অপেক্ষা করছে: আইনজীবীদক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩শায়েস্তাগঞ্জে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

  • আজ রবিবার, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৩ জুন, ২০২১ ৷

ত্রিশালে কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন

model school
❏ সোমবার, মে ১০, ২০২১ ময়মনসিংহ

মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি- আমরা খুব বেকায়দায় রয়েছি। খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছি। লজ্জাই না পারি কিছু করতে, না পারি বলতে; খোঁজ নেয়নি কেউ। আমাদের মতো অসহায় লজ্জাশীল অংশের দুঃখ, কষ্ট না দেখলেও চলে সরকারের। আমরা তো আর লজ্জায় রাস্তা অবরোধ করবো না, গাড়ি ভাঙবো না। তবে পেটের খিদে তো আর লজ্জা মানছে না।”

এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী নামের ত্রিশাল উপজেলার এক কেজি স্কুলের শিক্ষক।

উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের হদ্দের ভিটা গ্রামের মৈত্রী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম সাদেক বলেন, আমার টাকায় আমার পরিবার চলে। স্কুল বন্ধ থাকায় খুব বিপদে আছি। স্কুল খুলবে আশায় অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। এই ঋণের বোঝা কিভাবে যে পরিশোধ করবো আল্লাহই জানে। সরকার আমাদের কষ্ট বুজবো ভাবছিলাম। তা তো আর হলো না!

অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, আমরা মন, প্রাণ উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীদের ফলাফলও ভালো। কিন্তু এক বছরের অধিক সময় হলো আমাদের স্কুল গুলো বন্ধ রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান কখনো সরকারের দেয়া আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেনি। এখন একটা মহামারী চলছে। এই মহামারীতে আমরা নিরুপায় হয়েই সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। সরকার থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার প্রায় অর্ধশত কিন্ডারগার্টেন এখন অস্তিত্ব সংকটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হওয়ায় করোনাকালে ভাড়া দিতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্কুলের মাঠ ও ক্লাস রুমের বেহাল দশা। পরে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের দরজা জানালা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রাণির যাতায়াত এবং ক্লাস রুমে তাদের বসবাস। স্কুলের মাঠে কেউ রেখেছে খড় আবার কেউ রেখেছে গরুর গোবর। স্কুল আঙিনা খালি পেয়ে চলে আড্ডা।

তাছাড়া সকল শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও খারাপ। তারা তাদের স্কুল খোলা না পেয়ে অলস সময় পার করছে। কেউ কেউ আবার বাজে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বর্তমানে চালু করার উপযোগী ৫০টি কিন্ডারগার্টেন। শিক্ষক/শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী সংকটেও থাকতে হবে এসব প্রতিষ্ঠানের। পূর্বে যেসব শিক্ষক/শিক্ষিকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তার অধিকাংশই দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন কর্মের সাথে যুক্ত হওয়ায় ফিরতে পারবে না স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে।

ত্রিশাল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর কবীর বলেন, এরকম হাজারো শিক্ষকের আর্তনাদ হয়তো আমরা শুনতে পাই না। আমাদের উপজেলাতে ১৫০ এর অধিক কেজি স্কুল রয়েছে। এখানে প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মানবেতর জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিতে হলেও সরকারের এদের জন্য কিছু করা দরকার। এই ক্লান্তিকালে সহায়তা পেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এই সেক্টরে কাজ করা শিক্ষক-কর্মচারীরা।

ত্রিশাল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, এই করোনার সময় স্কুল টিকিয়ে রাখতে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুত বিল এবং নানা আনুষাঙ্গিক খরচ দেওয়াটাই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া স্কুল খোলার পর শিক্ষক/শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী কি পরিমাণ থাকবে তা নিয়েও রয়েছে নানা সংশয়। সব মিলিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। এখন সরকার যদি আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি না দেন এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমাদের তিল তিল করে গড়ে তুলা প্রতিষ্ঠানগুলো পূনরায় চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং একটি বিশাল জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হবে।

সামনে পবিত্র ইদুল ফিতর। গতবারের দুই ঈদের মতোই এই ঈদেও কিন্ডারগার্টেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ন্যূনতম আনন্দে ঈদ পালন করতে ব্যর্থ হবে। তাই সরকারের সদয় ও কার্যকরী পদক্ষেপই পারে কিন্ডারগার্টেনগুলোকে রক্ষা করতে।

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ বিষয়ে সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে যদি কোনো বরাদ্দ পরবর্তীতে আবার আসে তবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়ার চেষ্টা করবো।