🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৪ জুন, ২০২১ ৷

ভরণ পোষণ চাওয়ায় বাবার হাত ভেঙ্গে দেয়া সেই ছেলে গ্রেপ্তার

BAUPHAL BAD BOY NEWS
❏ সোমবার, মে ১০, ২০২১ আলোচিত

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ভরণপোষন চাওয়ায় বাবাকে বেধরক পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে সবুজ সিকদারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ওসি আল মামুনের নির্দেশে একদল পুলিশ তাকে (সবুজ সিকদার) রবিবার গভীর রাতে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সবুজের বাবার নাম মো. সেকান্দার আলী সিকদার (৮৪)।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধ সেকান্দার সিকাদেরর চার ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে সিদ্দিক সিকদার ঢাকায় থাকে। মেঝ ছেলে মিজান ও সেজ ছেলে সবুজ বাড়িতে থাকে। ছোট ছেলে জসিম সিকদার তার শ্বশুর বাড়ির কাছে আলাদা বাড়ি করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকে। মেয়ে তাজ মহলকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই।

সেকান্দার সিকদার অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী ময়না বেগমকে নিয়ে নিজ ঘরে পরবাসি জীবন যাপন করছেন। কোন ছেলেই তাদের খোঁজ খবর রাখেন না। নিজের বাড়িতে পর্যন্ত থাকতে পারেন না। কোন ছেলেরা তাদের একটি বারের জন্যও জিজ্ঞেস করে না কেমন আছো বাবা। কি ভাবে তোমাদের দিন চলে। কি খাও তোমরা ?

গত শনিবার তিনি জানতে পারেন তার সেজ ছেলে সবুজ বাড়ির বাঁশ কেটে সাবার করছিলেন। ওই খবর পেয়ে তিনি (সেকান্দার আলী সিকদার) বাড়ি গিয়ে সেজ ছেলেকে বাঁশ কাটার কারণ জানতে চান। এসময় ছেলের সাথে তার তর্ক হয়। তিনি ছেলেকে বলেন,‘ আমার সম্পদ ভোগ করতে হলে আমাকে এবং তোমার মাকে ভরণপোষন দিতে হবে।’ এতে সেজ ছেলে সবুজ ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা বাঁশ কাটা দায়ের উল্টো দিক দিয়ে তাকে বেধরক পিটিয়ে পিটিয়ে ঘরে আটকে রাখেন।

রবিবার দুপুরে খবর পেয়ে বড় ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সিকদারের মেয়ে (নাতনী) মরিয়ম বেগম ওই বাড়িতে গিয়ে তার দাদাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আখতারউজ্জামান বলেন, বৃদ্ধের হাত এক্সে করে দেখা গেছে তার বাম হাতের মধ্য অংশ ও ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গল সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে।

নাতনী মরিয়ম বেগম বলেন, তার দুই চাচা বাড়িতে থাকেন। তারাই দাদার সম্পদ ভোগ করেন। অথচ দাদা ও দাদীকে ভরনপোষন দিতে চাননা। ভরণপোষন চাইলে মারধর করেন। এর আগেও কয়েক বার তার দাদাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার দাদা নিরুপায় হয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে জীবন চালায়। রাতে মসজিদে কিংবা কোন দোকান ঘরের সামনের বেঞ্চে ঘুমান। আর তার দাদী কখনো মেয়ের বাড়ি, আবার কখনো তার বাড়িতে এসে থাকেন।

এ ঘটনায় বৃদ্ধ সেকান্দার আলী বাদি হয়ে বাউফল থানায় সেজ ছেলে সবুজ ও মেঝ ছেলে মিজানসহ ওই দুই ছেলের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি মামলা করেছেন। (মামলা নং ১২ তারিখ ১০/০০৫/২১) ।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ওই বৃদ্ধকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।

এ দিকে বৃদ্ধ সেকান্দার আলী অভিযোগ করেন, তার বয়স  বয়স ৮০ বছরের উপরে হলেও তিনি সরকারের বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি ও ভিজিএফসহ কোন প্রকার সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেননা।

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘ এসআই আবদুস সবুরের নেতৃত্বে রবিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত ছেলে সবুজ সিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।