• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

এখনো ঈদ করতে বাড়ী আসছে দক্ষিনঅঞ্চলের ২১জেলার হাজার হাজার মানুষ

madaripur fari gaht-pic
❏ রবিবার, মে ১৬, ২০২১ ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার,মাদারীপুর: দুল ফিতরের ৩য়দিনও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ঢাকা ও ঘরমুখী মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। চলছে ১৬টি ফেরি। রোববার ভোর থেকে ঘাটে যাত্রীদের চাপ যা ছিল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা যায় অনেক বেশী। তবে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় একটু বেশী হলেও দক্ষিন অঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ এখনো ঈদ উপলক্ষে বাড়ী ফিরছে। বাংলাবাজার থেকে ফেরিতে জরুরি পরিবহনসহ কর্মস্থান মুখী যাত্রী নিয়েই ফেরিগুলো শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া যারা ঈদের আগে বাড়ির ফিরতে পারেননি, তারা এখন বাড়ি ফিরছেন। বাড়ি ফেরাদের সংখ্যা এখনো প্রচুর। প্রত্যেকটি ফেরিতেই প্রচুর যাত্রী রয়েছেন। একইসঙ্গে হালকা যানবাহনও রয়েছে ফেরিতে।

লকডাউন ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন, যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ঈদের আগে বাড়ি ফেরার নিয়ে গত একসপ্তাহ ধরে ঘাটে নানা ঘটনা ঘটে চলেছে।

এর আগে গত বুধবার(১১ মে) ফেরিতে প্রচণ্ড ভিড় ও গরমে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই অতিরিক্ত যাত্রী যাতে না তোলা হয়, সেদিকে ফেরি কর্তৃপক্ষের কড়া নজর রয়েছে। এ ছাড়া সবকটি ফেরি চালু রাখা হয়েছে।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ফেরিঘাটের সবগুলো ঘাট চালু থাকায় শিমুলিয়া থেকে একযোগে তিন/চারটি ফেরি যাত্রী ও হালকা যানবাহন নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে। বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়েই সাথে সাথে পরিবহন ও ঢাকামুখী যাত্রীদের নিয়ে ফেরিগুলো শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছুটে যাচ্ছে। তবে ঢাকায় ফেরার চাপ গতকালের চেয়ে অনেক বেশী।

দিনাজপুর থেকে আসা এক যাত্রী রহমত জানান, ঈদের আগে বাড়ীতে আসিনি এখন আসলাম বাবা মা নিজ পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে।
শাহআলম নামে এক যাত্রী জানান, আমি একা একা ঢাকা থেকেই ঈদ পালন করেছি কিন্ত ভেবেছিলাম ঈদের পরে খুব সহজে বাড়ী আসতে পারবো কিন্ত এখনো প্রচুর ভিড়। সরকারের সকল পরিবহন চলতে দেয়া উচিত। কত কস্ট করে ঘাট পযন্ত এসেছি অনেক পথ হেটেও আসতে হয়েছে। এই কস্ট শুধু পরিবারকে দেখার জন্য।

ঢাকামুখী এক যাত্রী ইসমাইল জানান, ভোরে বাংলাবাজার ঘাটে এসেছি ভেবেছিলাম এতো ভোরে তেমন ভিড় হবে না কিন্ত অনেক ভিড় তার মধ্যেই ঢাকা যেতে হবে এরপর কুমিল্লা এর পর চট্রগ্রাম। কারন একটাই আমি একটি বেসরকারি চাকুরি করি আজ যেতে না পারলে কাল আমার চাকুরি থাকবে না।

ঢাকামুখী আর এক যাত্রী সুন্দরআলী জানান, আমি গার্মেন্টেসে চাকুরি করি। তাই আজ কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছি। তবে ফেরিতে যাত্রী আগের মত গাদাগাদি করে তুলছে না। এটা ভাল তবে লঞ্চ ও দুরপাল্লার পরিবহন চালু করলে আমাদের খরচটা একটু কম হতো। কস্টও কম হতো।

মাদারীপুর ফায়ার সাভির্স সহকারি অফিসার মাহাতাব হোসেন জানান, সকাল থেকে বাংলাবাজার ঘাটে উপচে পড়া ভিড়। আমার আগে থেকেই প্রস্তুত আছি কোন দুর্ঘটনা হলে সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী মোকাবেলা করার জন্য। তাছাড়া আমরা মানুষদের সচেতন করছি যাতে কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে।
মাদারীপুর বাংলাবাজার ফেরিঘাটের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়ের সাথে সাথে ঢাকামূখী যাত্রীদের চাপও আজ বেশী। তাই আমরা সকল ফেরি সচল রেখেছি।