• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

বিয়ের কথা বলে প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ

Jamalpur news
❏ মঙ্গলবার, মে ১৮, ২০২১ ময়মনসিংহ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগে মোঃ ফয়সাল (২২ ) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

গত শনিবার রাতে জামালপুর সদরের নরুন্দি ইউনিয়নের মহিশুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা গেছে,সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের চন্দ্রবাড়ী গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অটোচালক ফয়সাল প্রেমের সম্পর্কের জেরে ওই কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। বাড়ির কিছু জিনিস কেনার জন্য কলেজছাত্রী গত শনিবার সকালে নরুন্দি বাজারে গেলে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাজারের বটতলা মোড়ে তাকে একা পেয়ে ফয়সালের বন্ধু কয়েকজন অটোচালক তাকে বলে ফয়সাল আজকেই তাকে বিয়ে করবে। ফয়সাল বর্তমানে নরুন্দি ইউনিয়নের মহিশুড়া গ্রামে তার খালার বাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে সেখানে নিয়ে যেতে বলেছে ফয়সাল।

এ সময় কলেজছাত্রী তাদের কথায় রাজি হয়। কিন্তু ফয়সালের বন্ধুরা তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার বদলে এখানে সেখানে ঘুরে সময় কাটায়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ফয়সালের বন্ধুরা তাকে নিয়ে মহিশুড়া গ্রামে ফয়সালের খালারবাড়িতে না গিয়ে একই গ্রামে আরেক বন্ধু আলমগীরের আত্মীয় আশরাফ আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও ফয়সাল সেখানে যায়নি। বন্ধুরা জানায় আসছে।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বন্ধুরা তাকে ওই আশরাফ আলীর বাড়ির পাশেই মৎস্য প্রকল্পের ভেতরে টিনের একচালা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা ফয়সাল ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে।

পরিবারের স্বজনদের সহযোগিতায় ওই ছাত্রী গতকাল রবিবার স্থানীয় নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ওই ধর্ষণকারী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ব্যাপারে ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে ফয়সাল ও তার চারজন সহযোগীকে আসামি করে আজ সোমবার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন অটোচালক আলমগীর হোসেন, মো. অপু, মো. শাহীন ও খোকা।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান বলেন, কলেজছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও এসব অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পাঁচজন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি ফয়সালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কলেজছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।