🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল ডিআরইউ

noufel
❏ বৃহস্পতিবার, মে ২০, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ডিআরইউতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় ডিআরইউর প্রতিবাদ সমাবেশে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এমন ঘোষণা দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

ডিআরইউ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমরা ডিআরইউ প্রাঙ্গণে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। ডিআরইউর কোনো অনুষ্ঠানে তাকে অতিথি করা হবে না। তাকে অতিথি করলে ডিআরইউতে মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হবে না।

এসময়য় মসিউর রহমান খান আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই নিজেকে গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের নেতা মহিবুল হাসান নওফেলের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক সাংবাদিক নেতা। তাঁরা বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা বনে গিয়ে কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না। মাঠের রাজনীতি করলে পরিস্থিতি বুঝতে পারতেন।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, শুধু রোজিনার মুক্তি নয়, মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি তাঁকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। আন্দোলন বেগবান করতে সাংবাদিকদের সব সংগঠন নিয়ে একটি মোর্চা গঠন করে সমন্বিত কর্মসূচির তাগিদ দেন অনেকে।

আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানী। তিনি বলেন, সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে কাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে। ধাপে ধাপে কর্মসূচি চলবে। রোজিনার মুক্তির আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই আন্দোলন থামবে না।

তিনি বলেন, রোজিনা ইসলামের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং সেখানে অবশ্যই সাংবাদিক প্রতিনিধি থাকতে হবে৷ কারণ, যারা রোজিনা ইসলামকে মেরেছেন, তারা তদন্ত করবেন, সেটি হতে পারে না।

এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জন্য অসম্মানজনক। কোনো সাংবাদিক চোর নন, তারা তথ্য সংগ্রহকারী।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান ও রিয়াজ চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ ফয়েজ, ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ- ডিক্যাবের সভাপতি পান্থ রহমান প্রমুখ৷