কর্ণফুলীতে ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ ক্রমেই ভয়ানক হয়ে উঠেছে

Chattragram news
❏ শুক্রবার, মে ২১, ২০২১ ফিচার

জে জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে উঠতি কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’’। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ অভিভাবকরা।

জান যায়, গ্যাং গ্রুপ সদস্যদের অনেকের অভিভাবক প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখ। আবার অনেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফলে অপরাধ করলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পান। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে।
এরা ইভটিজিং থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, মাদক সেবন, অপহরণ, এমনকি হত্যাকান্ডের সাথেও রয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা।

এলাকা ভিত্তিক ছোট-বড় গ্যাং তৈরি করে এসব অপরাধম‚লক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে কিশোর সন্ত্রাসীরা। এদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উঠতি বয়সি ‘বখাটেদের’ দৌরাত্ম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বখাটে সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায়ই কিশোর গ্যাং-এর কবলে পড়ে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে অনেকেই। অনেকেই তাদের ভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ কিংবা কথা বলতেও সাহস পান না। এলাকাবাসির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় এসব অপর্কম হলেও অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে এসব কিশোরেরা। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় রাজনৈতিক ছত্রছায়া, এলাকার কথিত বড় ভাইদের অনুচর হিসেবে সক্রিয় থাকছে এসব উঠতি বয়সি বিপদে যাওয়া তরুণ। এলাকাভিত্তিক গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট-বড় অপরাধী গ্যাং। তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে। যার কারণে অল্প সময়ে এরা সংঘটিত হয়ে অপরাধ ঘটান।

অনেকেই নিজেদের স্বার্থের জন্য অপরাধ কর্মকান্ডে কিশোরদের ব্যবহার করেন। ফলে এক সময় কিশোররা পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন শুধু পাড়া-পড়শিরাই নয়, নিজের পরিবারের জন্যও তারা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই অল্পতেই তাদের নিয়ন্ত্রণ না করলে অচিরেই একেক এলাকার জন্য কিশোর গ্যাং আতঙ্ক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

কিশোর গ্যাং: যেভাবে গড়ে ওঠে

পাড়া মহল্লায় অলিতে গলিতে চায়ের দোকানে উঠতি বয়সের কিশোরদের আড্ডা বাড়ছে। গ্যাং করে বসে অনলাইনে জুয়ার বাজি ধরে। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে এলাকাভিত্তিক গ্রুপগুলো। তাঁরা নিজেদের দল ভারী করতে এসব কিশোরকে দলে ভেড়াচ্ছে। সামান্য টাকা পয়সা লোভে ফেলে এদের উসকে দিচ্ছেন একটি মহল। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এমন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে কর্ণফুলীতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে কিশোর অপরাধ। মাদক সেবন, মারামারি করে আধিপত্য বিস্তার, মোটর সাইকেল মহড়া, কারখানার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, এমনকি সামান্য কারণে খুনের মতো ঘটনাও ঘটিয়ে ফেলছে উঠতি বয়সী কিশোররা, নাম লেখাচ্ছে অপরাধীর খাতায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন-বড়উঠানের শাহমীরপুর, শিকলবাহা, চরলক্ষ্যা, ইছানগর, চরপাথরঘাটা ও জুলধায় যে কিশোর কালচার গুলো রয়েছে এদের চিহ্নিত করা দরকার। এসব কিশোর সদস্যদের কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এটাও স্পষ্ট করা দরকার।

কেনোনা, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বড়উঠান ইউনিয়নে কিশোর দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের কোপে ছাত্রলীগ নেতা মামুন আল রশিদ (২৪) খুন হন। ২০১৯ সালের ৫ মার্চ রাতে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজম আলীর পুকুর পাড়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন আজগর (২৫)। ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি শিকলবাহা এলাকায় দুবাই প্রবাসী রায়হানুল ইসলাম সজিব (২৫) কে গামছা পেঁচিয়ে খুন। একই বছরের ২৫ এপ্রিল সকালে চরলক্ষ্যার খুইদ্দারটেক এলাকায় ছুরিকাঘাতে আরিফ হোসেন দোভাষ (২০) খুন। ১৯ এপ্রিল রাতে চরলক্ষ্যা ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি নির্জন স্থানে কবিরাজ সায়ের মোহাম্মদ সাগরকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর কয়েক মাস পর ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় চরলক্ষ্যার মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (২৬) কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন।

এছাড়াও চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সৈন্যেরটেকে কিশোর গ্যাং কতৃক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডিজে সৈকতের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট। চরপাথরঘাটার খোয়াজনগরে আব্দুল জলিল ফকির কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ছুরিকাঘাতে বোরহান উদ্দিন সোহান (১৬) কে গুরুতর জখম। চরলক্ষ্যার ৬ নং ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় একই পরিবারের তিন সহোদর মো. ইউসুফ (৩৪), মো. ইসহাক (৩২) ও মো. ইলিয়াছ (৩০) আহত করার মতো সবকটি ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত।

কিশোর অপরাধ হতে উত্তরণে স্থানীয় নেতারা কী ভাবছেন:

কর্ণফুলীর বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমেদ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি মনে করি পরিবারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা পরিবারের নৈতিক দায়িত্ব হবে ছেলে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, কি করে একেবারে সু² ভাবে অবগত থাকতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে, পরিবার ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সমাজেরই একটা অংশ বিশেষ। অতএব, তাঁদের কর্মীর জীবন বৃত্তান্তসহ কর্মকান্ড ও পর্যবেক্ষণ থাকা উচিৎ।

এছাড়াও প্রশাসন আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কারণ যে কোন ঘটনা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কিশোর, যুবক গ্যাং, সমাজের বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করে যথাপোযুক্ত আইনি ব্যবস্থাসহ নিজের থানার স্পর্শকাতর হটস্পট গুলো চিহ্নিত করে রাতে টহল বৃদ্ধি জোরদার করা। পরিশেষে বলবো পরিবার,সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনসহ সবাইকে নীতি নৈতিকতার দায়িত্ব বোধ থেকে এক সাথে কাজ করলে সমাজে কিশোর গ্যাংসহ সকল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বড়উঠান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘কর্ণফুলীতে কিশোর অপরাধ দিন দিন বাড়তেছে; সেটা সত্য। এসব কিশোর অপরাধ দমনে সকলকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে পরিবার, সমাজ, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের লোকজন মিলে একত্রে ভূমিকা রাখলে হবে। এসব অপরাধ দমন করা তখন অনেকটা সহজ বলে আমি মনে করি। কেনোনা আমরা সমাজবদ্ধ মানুষ। সমাজের মানুষকেই এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

কী কারণে কিশোররা গ্যাং সংস্কৃতিতে ঝুকেছে?

সমাজ সচেতন মানুষেরা মনে করেন মূলতঃ দুটি কারণে কিশোররা এসব গ্যাং সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রথমতঃ মাদক, অস্ত্রের দাপটসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। দ্বিতীয়তঃ এখনকার শিশু-কিশোররা পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছে না। ফলে কিশোরদের কেউ যখন বন্ধুদের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোতে ঢুকছে এবং মাদক ও অস্ত্রের যোগান সহজেই পেয়ে যাচ্ছে তখন তার প্রলুব্ধ হওয়া এবং অপরাধপ্রবণ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তাঁরা মনে করেন, একদিকে সমাজে অপরাধী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে পরিবারে কিশোরদের একাকী বা বিচ্ছিন্ন না রেখে যথেষ্ট সময় দিতে হবে। কোন নিরপরাধ কিশোর কিংবা তার পরিবার যেন ভোগান্তির মধ্যে না পড়ে, হয়রানির শিকার না হয়। নিরপরাধ একজন কিশোরকে হুট করে সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা হলেও তা ঐ কিশোরকে ট্রমার মধ্যে ফেলে দিতে পারে।

পুলিশের আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট কিনা

গত কয়েক বছরে কর্ণফুলীতে কিশোর কতৃক বেশ কয়েকটি অপরাধ ভয়ংকর ভাবে নাড়া দিয়েছে। একাধিক খুনের ঘটনার পর থেকেই আইন-শৃংখলা বাহিনীর বাড়তি পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে। অনেক অপরাধীকে পুলিশ আইনের আওতায় এনেছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুরে বলেন, এসব কিশোর অপরাধী জামিনে বের হলে অনেক পাতিনেতা জেল গেইটে ফুলের মালা দেওয়ায় তা দেখে কিছু কিশোর বিপদে চলে যাচ্ছেন।

সিএমপি বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এসএম মেহেদী হাসান জানান, ‘নির্দিষ্ট কোন এলাকায় যখন পুলিশ অভিযান চালান। তখন আসলে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তেমন থাকে না। কিন্তু আটকের পর যারা দোষী নয়, তাদের অভিভাবকদের ডেকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে অভিভাবকদেরও খেয়াল রাখা উচিত যে তাদের সন্তান অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে যাওয়া-আসা করছে কিনা।’

পুলিশ কিশোর অপরাধ দমনে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু আইনের প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান করা সহজ নয়। এক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় জড়িত। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

অপরদিকে, কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘কিশোর সদস্যরা ছোটখাটো অপরাধ করতে করতে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই এদেরকে সংশোধন করতে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে একটু খোঁজখবর রাখলে তাদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এরপরেও কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাশাপাশি কিশোরদের গ্যাং সংস্কৃতি এবং অপরাধ বন্ধ করতে স্কুল-কলেজ, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালু করতে। বিট পুলিশকে বিষয়টি সম্পর্কে জানাতে।’

কিশোর অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

উপজেলার বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে কিশোর অপরাধ নির্ম‚লে গ্যাংগুলোর হটস্পট চিহ্নিতকরণে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মানসিকভাবে সংশোধনের ব্যবস্থা করা, কিশোর-কিশোরীরা যাতে অসৎ উদ্দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার না করে সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক করা, তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের দরকার রয়েছে।

এছাড়াও পারিবারিক বন্ধন জোরদার করা এবং সন্তানরা কখন কোথায় যাচ্ছে, কি করছে কাদের সঙ্গে মিশছে সে বিষয়েও জোর দেওয়ার সুপারিশ করা। আর স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষকদের মোটিভেশনাল ভূমিকা রাখা, কিশোর-তরুণদের গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যেন কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতে না পারেন সে বিষয়ে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।