কাপাসিয়ায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মুক্তি ও হেনস্তাকারীদের শাস্তি দাবি

Kapashia news
❏ শুক্রবার, মে ২১, ২০২১ ঢাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর : দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও বৃটিশ আইনে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, র‌্যালি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ মে) বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে কাপাসিয়ায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা ওই প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশ নেয়। এ ছাড়াও সমর্থন জানিয়ে কাপাসিয়া সংস্কৃতি পরিষদের সদস্যরা প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশ নেন।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের কাপাসিয়া প্রতিনিধি শামসুল হুদা লিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক সঞ্জিব কুমার দাস, সাইফুল ইসলাম শাহীন, এফ.এম. কামাল হোসেন, নূরুল আমিন সিকদার, মো. মজিবুর রহমান, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আঃ কাইয়ুম, মো. আকরাম হোসেন রিপন, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, কাপাসিয়া সেন্ট্রাল কলেজের পরিচালক ইকবাল হায়দার সবুজ, শিক্ষক নেতা আশরাফ খান প্রমুখ।

কর্মসূচীতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তিনি চোর হলে দেশের সব সাংবাদিক চোর। রোজিনা ইসলাম দুর্নীতিবাজদের জন্য আতঙ্ক। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোনও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি, দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে সরকার দেশকে আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আমলারা জনগণের কামলা। এই কামলাদের রাজত্বের কারণে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম দিনকে দিন অকেজো হয়ে পড়ছে।

বক্তারা মনে করেন, নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন নিম্ন পদস্ত নারী রোজিনার গলা চেপে ধরেছে; তাকেসহ সকল হেনস্তাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তাদের চাকরী থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সরকারের চোখে আঙুল দিয়ে দুর্নীতির চিত্র দেখিয়ে দিয়েছেন। তবুও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকেই জেলে পাঠানো হলো। এ ঘটনায় জাতির বিবেক সাংবাদিকরাসহ সর্বস্তরের মানুষ আজ স্তম্ভিত বিস্মিত ও আতংকিত।

তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, কোনও ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনকে প্রথমে খুব সোচ্ছার হতে দেখি। তদন্ত কমিটি করতে দেখি। কিন্তু তদন্ত কমিটির নামে জনগণকে বোকা বানানো হয়। দেশের মানুষকে শান্ত করে প্রতিবারই দেখি ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। আমরা সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার ঘটনায় এমন তদন্ত দেখতে চাই না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই। এ জন্য তদন্ত কমিটিতে অবশ্যই সাংবাদিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। যারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ছয় ঘণ্টার বেশী সময় আটকে নির্যাতন করেছে তাদের হাতে তদন্ত কখনো স্বচ্ছ হতে পারে না।

কাপাসিয়ার সাংবাদিকরা হুশিয়ারী দিয়ে আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রোববারের মধ্যে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো। রোজিনাকে মুক্তি ও গণমাধ্যমকে রক্ষা করতে আমরা স্বেচ্ছায় কারাবরণে প্রস্তুত রয়েছি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বৃটিশ আইনে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পুরো বিশ্ব জেগে উঠেছে। এই আইন সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য। অপেশাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ জন্য রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে সাংবাদিককে নয়; বরং ওই কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে র‌্যালি বের হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সাংবাদিকরা দুর্নীতি বিরোধী শপথবাক্য পাঠ করেন। এরপর ইউএনও মোসা. ইসমত আরার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে কাপাসিয়ায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।