কুড়িগ্রামের ধরলার তীর যেন মিনি কক্সবাজার


❏ শুক্রবার, মে ২১, ২০২১ রংপুর

ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার: পাশেই প্রস্তাবিত শেখ রাসেল শিশু পার্ক। পাশেই ধরলা নদী। শিশুপার্কের স্থানটি ঘিরে দেয়া বেড়ি বাঁধ যেনো কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য মিনি কক্সবাজার। কুড়িগ্রামে বিনোদনের জন্য তেমন খোলামেলা জায়গা না থাকায় ধরলা পাড়কেই বিনোদন ও আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে বেচে নেন ভ্রমর পিপাসুরা।

এ যেন এক সমুদ্র সৈকত। তাই ঈদের আনন্দে প্রকৃতির এমন আয়োজন উপভোগ করতে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর তীরে প্রতিদিন ছুটছেন হাজারও মানুষ। ঈদ উদযাপনে বিনোদনপ্রেমীদের কাছে অন্যতম স্পটে পরিণত হয়ে উঠেছে স্থানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলার তীরের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মানুষ আর মানুষ। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দল বেধে। কেউ সেলফি আবার কেউ গা ভাসাচ্ছেন ধরলার জলরাশিতে। নৌকাযোগে গান বাজিয়ে তীর ঘেসে এদিক-সেদিক ছুটছে কিশোর-যুবকরা। সবাই ঈদ আনন্দে উৎফুল্ল। নদী তীরের নয়নাভিরাম পরিবেশ আর মানুষের মিলন মেলায় যেন আরেকটি মিনি কক্সবাজারে রূপ নিয়েছে কুড়িগ্রামের ধরলার তীর। তবে করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের মাঝে চরম উদাসীনতা দেখা গেছে।

রিপনের সাথে ঘুরতে আসা রাজারহাটের সিন্ধা বলেন, এখানে এতো বাতাস- মন জুড়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো বাতাস। বন্ধুর সঙ্গে এসেছি ভালো লাগছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনা-লকডাউন কোথাও তো যাওয়ার জায়গা নেই। এ জায়গাটি অপূর্ব। গত কয়েকবছর ধরে এখানে মানুষ আসতে শুরু করেছে। বন্ধুরা সবাই মিলে গোসল করলাম।

রোকনুজ্জামান বলেন, কুড়িগ্রামে বিনোদন কেন্দ্রের অভাব। তার উপরে করোনা, মানুষের যাওয়ার জায়গা নেই। এ জায়গাটি সুন্দর। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, শীতল বাতাস সবারই ভালো লাগবে।

মৌসুমী নামের একজন বলেন, করোনা তো বছর জুড়েই চলছে। কতদিন ঘরে থাকবো, ঈদের মধ্যে ঘুরতে বের হয়েছি।

শেখসাদী নামের একজন জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমি আমার শশুর সেকেন্দারকে ঘোরাতে নিয়ে এসেছি। অথচ শেখ সাদী ও তার শশুর সেকেন্দারের মুখে কোন মাস্ক ছিল না।

ঘুরতে আসা আবুল হোসেন বলেন, প্রতি ঈদে সবাই অনেক দূরে ঘুরতে যায়। সরকার দৃষ্টি দিলে ভবিষৎতে এটিও গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র হতে পারে।