খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮৫ চীনা নাগরিক করোনায় আক্রান্ত

khulna
❏ শনিবার, মে ২২, ২০২১ Uncategorized

সময়ের কণ্ঠস্বর, খুলনা- খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে নির্মিতব্য ৩৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে কর্মরত ৮৫ চীনা নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ২২ জন নেগেটিভ হয়েছেন। তবে অবশিষ্ট ৬৩ জন এখনও করোনা পজিটিভ রয়েছেন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ল্যাব সূত্র জানায়, গত ১৬ মে নির্মিতব্য ৩৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে কর্মরত ৯৭ জনের করোনা টেস্ট করার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। ১৮ মে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় ৯৭ জনের মধ্যে ৪২ জনই করোনা পজিটিভ।

খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম ১০ জন চীনা নাগরিকের করোনা টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের পজিটিভ আসে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসা জন্য ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। আক্রান্ত অন্য ৫ জনকে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা যায়, নগরের খালিশপুরে ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রায় ১৮৫ জন চীনা নাগরিক কাজ করছেন। এই প্রকল্পে দৈনিক ভিত্তিতে আরও ৫০০-৬০০ শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া সহস্রাধিক শ্রমিক প্রতিদিন এই প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। গত এক মাসে এখানে মোট ৮৫ জন চীনা নাগরিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

পাওয়ার প্লান্টের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত এক মাসে (১৮ এপ্রিল থেকে ১৮ মে) প্রজেক্টে কর্মরত ৮৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনের ইতিমধ্যে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এখনও ৬৩ জন আক্রান্ত রোগী আছে।’

তবে তিনি দাবি করেন, আক্রান্তরা নিজস্ব হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তারা বিদেশি নাগরিক, এমনিতেই স্থানীয়দের সঙ্গে তেমন মেলামেশা করেন না। আক্রান্ত কেউ কাজে অংশ নেয়নি। তারা ইতিমধ্যে সবাই করোনা টিকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রজেক্টে কর্মরত এত বড় সংখ্যক চীনা নাগরিক কেন করোনা আক্রান্ত হলো- বিষয়টি দেখার জন্য আইইডিসিআর’র খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর তদন্ত করছেন। তিনিই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।’

রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. হাসনাইন শেখ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি গত বৃহস্পতিবার প্রজেক্টে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার চীনা কমিউনিটিতে ঢুকতে দেওয়া হয় না। যা কথা বলার তা ফোনেই বলতে হয়েছে। তাদের সবার করোনার টিকা দেওয়া আছে। তাদের নিজস্ব চিকিৎসকও রয়েছে। তবে আক্রান্ত চীনারা কাজে অংশ নিচ্ছেন কিনা বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।