দেশসেরা উদ্ভাবক হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান

masudul
❏ শনিবার, মে ২২, ২০২১ রংপুর

আব্দুল আজিজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ সারাদেশ থেকে তিনজন শিক্ষা অফিসার এবং দুইজন সহকারী শিক্ষককে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ নির্বাচিত হয়েছেন। করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও কীভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া যায় সেই পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন তিনি।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ও সচিবের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ সারাদেশ থেকে নেওয়া ইনোভেশন শোকেসিং যাচাই-বাছাই করে তাদের নির্বাচিত করা হয়।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জুনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে মাসুদুল হাসান দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই তাঁর তত্ত্বাবধানে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের চেহারা পাল্টাতে শুরু করে। তিনি বিদ্যালয় সুসজ্জিতকরণ, ( ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস সংবলিত বিভিন্ন ছবি দ্বারা শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিতকরণ) মুক্তিযুদ্ধ গ্যালালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, সততা স্টোর, নৈতিকতা গ্যালারি, শিশু শ্রেণিতে টাইলস, পতাকা বেদিতে টাইলস, স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ, শিশু পার্ক নির্মাণ, করোনাকালীন শিশুদের ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, বিজ্ঞান উপকরণ সরবরাহ, বিদ্যালয়গুলোতে সিসি ক্যামেরা চালু, করোনাকালীন শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়া এবং সেই ক্লাসগুলো ডাউনলোড করে শিশুদের পেনড্রাইভে করে বিতরণ করার ব্যবস্থা করাসহ শিক্ষাবান্ধব সরকারের প্রতিটি শিক্ষাভিত্তিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

এর আগে ২০২০ সালে কন্যাশিশু সুরক্ষা সেল নামের একটা ইনোভেশন নিয়ে কাজ করে তিনি দেশসেরা হয়েছিলেন।

হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান জানান, করোনারকালে সারা পৃথিবী যখন স্থবির তখন প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করে মন্ত্রণালয়। তখন থেকেই হাকিমপুর উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য করোনার সময়ের শিক্ষা পদ্ধতি বা বিকল্প নিয়ে ভাবতে থাকি। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষকবৃন্দের পাঠদানের অডিও ও ভিডিও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রদান (মেমোরি কার্ডে) করে করোনাকালীন পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা শীর্ষক ইনোভেশন আইডিয়া নিয়ে কাজ করেছি, যা পরবর্তীতে পাইলটিং-এর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সম্প্রতি এর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মাদ নূর-এ আলম জানান, করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তার এ অনন্য অবদানের জন্য আমার পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা মহামারির এ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি অনলাইনে ক্লাস নেওয়া এবং সেই ক্লাসগুলো ডাউনলোড করে শিশুদের পেনড্রাইভে বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। তার এই শোকেসিং পদ্ধতি যদি জাতীয়ভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে বলেও জানান তিনি।

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দিনাজপুর জেলাসহ রংপুর বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি আগের স্টেশনগুলোতেও অনেক ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রেখেছেন এবং অনেক ইনোভেটিভ কাজ করেছেন। তিনি ভবিষ্যৎতে আরো ভালো কিছু করুক এমটাই তার প্রতি আশা রাখি।