চরফ্যাসন-মনপুরা নৌরুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

pic bara
❏ শনিবার, মে ২২, ২০২১ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরফ্যাসন-মনপুরা নৌ-রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন লঞ্চ মালিকরা।

ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক জরিমানা আদায়ের পরেও আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিনই আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। এতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারন যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে হেনাস্তার স্বীকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

জানাযায়, গত ১৯মে বুধবার মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম মিঞা দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে জনতাবাজার লঞ্চ ঘাটে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ধার্যকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বেশী ভাড়া আদায়ের কারনে মনপুরা-চরফ্যাসন নৌ রুটের লঞ্চ

কর্তৃপক্ষকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জনতা ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করার অপরাধে ঘাট ইজারাদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ঘাটে ও লঞ্চে মুল্য তালিকা প্রদর্শন করে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা করে নেওয়ার জন্য ধার্য করে দেন ভ্রাম্যমান আদালত।

কিন্তু একদিন যেতে না যেতেই আবারো জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া ১২০ টাকা আদায় করে যাত্রীদের কাছ থেকে। লঞ্চে থাকা অনেক যাত্রীরা ১২০ টাকা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সাথে খারাপ আচরণ ও হুমকি প্রদর্শন করেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের হয়রানীর উদ্দেশ্যে মাঝপথ থেকে নৌ-রুটের মালিক কর্তৃপক্ষ লঞ্চ ঘুরিয়ে বেতুয়া ঘাটে নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী যাত্রী, মোঃ ফরুক, কামাল, অহিদ, আসমা বেগম ও নুপুর বেগম জানান, ভ্রাম্যমান আদালত জনতা টু বেতুয়া লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত যাত্রী ভাড়া ৮০ টাকা ধার্য করে দেন। কিন্তু লঞ্চ কর্তপক্ষ ১২০ টাকা ভাড়া আমাদের কাছ থেকে জোর পুর্বক আদায় করেন। কম ভাড়া দিতে চাইলে আমাদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করেন। তাই বাধ্য হয়ে ১২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা জানান, মনপুরা জনতাবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে চরফ্যাসন বেতুয়া লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত মাত্র ৪৫ মিনিটের পথ। যেখানে লকডাউনের আগেও ৮০ টাকা ভাড়া ছিল। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে সরকারী স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে মন মত ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা আদায় করছে। সাধারন জনগন ভোলা জেলা প্রশাসক, চরফ্যাসন, মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি কামনা করছেন। রক্তচোষা লঞ্চ মালিক কর্তপক্ষের শোষনের হাত থেকে চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলার মানুষ যেন অচিরেই মুক্তি পেতে পারে তার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী যাত্রীরা জোর দাবী করছেন।

ভ্রাম্যমান আদালত বেধে দেওয়া ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে এম.ভি সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া লঞ্চের মালিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম মিঞা বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।