• আজ বুধবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৩ জুন, ২০২১ ৷

যেসব শর্তে সাংবাদিক রোজিনার জামিন

rozina
❏ রবিবার, মে ২৩, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন বিষয়ে আজ রোববার আদেশ হয়। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পান।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু আদালতকে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ মামলার আসামি রোজিনা ইসলাম যদি তাঁর পাসপোর্ট আদালতে জমা দেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর জামিনে কোনো আপত্তি নেই।

পরে রোজিনা ইসলামের পক্ষ থেকে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যে শর্ত দিয়েছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী মাধ্যম। সবাই যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন।

আদালতে রোজিনা ইসলামের পক্ষে আরও ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো, আশরাফ-উল আলম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, প্রশান্ত কুমার কর্মকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রশীদ।

রোজিনার পক্ষে আইনি সহায়তা দেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইনজীবী মশিউর রহমান, আসকের মিজানুর রহমান, মহিলা পরিষদের দীপ্তি সিকদার, শাম্মী আক্তার। এ ছাড়া আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন সুমন কুমার রায়, মাহবুবুল হক, আবদুর রহীম।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তাপস কুমার পাল ও হেমায়েত উদ্দিন খান।

আদেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামিনের শর্তের বিষয়ে কথা বলেন রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

তিনি জানান, পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে রোজিনা জামিন পান। আপাতত তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

সমাজী আরও বলেন, ‘…রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদেশের আগে কয়েকটি ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। আমরা তার বিরোধিতা করেছি।

‘আমরা বলেছি, আদেশের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ধরনের তথ্য উপস্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। আদালত আমাদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে এই আদেশ জানিয়ে দেন।’

রোজিনার পাসপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘আদালত যেহেতু আদেশ দিয়েছেন তাই আদালতেই রোজিনার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আর তা আজকেই জমা দিতে হবে।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালতে তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক আদেশ না দিয়ে নথি পর্যালোচনা করে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। পরে জানা যায়, তাকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন। রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি।

একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথি সরানোর অভিযোগ এনে পুলিশ ডাকা হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালত রোজিনা ইসলামের রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।