🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

আবুধাবিতে খেয়ে-না খেয়ে কাটছে ৩ শতাধিক প্রবাসীর জীবন, খাদ্য দিয়েছে দূতাবাস

food
❏ সোমবার, মে ২৪, ২০২১ প্রবাসের কথা

মতিউর রহমান মু্ন্না, আরব আমিরাত থেকে: সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির একটি ক্লিনিং কোম্পানি বিগত পাঁচ মাস থেকে বন্ধ থাকায় এর তিন শতাধিক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরই মাঝে পাঁচ মাসের বেতন বকেয়াসহ বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্য সংকটে রয়েছেন শ্রমিকরা।

স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে গেলেও অনেক দিন অনাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি প্রবাসে বেকার হওয়ায় তাদের পরিবারেও যেন নেমে এসেছে কালো মেঘের ছায়া।

আবুধাবিতে মাফরাক শিল্প এলাকার ব্যাইনোনা জেনারেল ক্লিনিং কোম্পানির ভুক্তভোগী শ্রমিকরা ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের দায়ের করা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্যাইনোনা জেনারেল ক্লিনিং কোম্পানির শ্রমিক দেলোয়ার বলেন, এই কোম্পানিতে আমরা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কাজ করছি। প্রথম দুই বছর সবকিছু ঠিক ছিল। এরপর থেকে নানা সময় বেতন বকেয়া রাখছে। গত পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া। খাবার নাই, বিদ্যুৎ ও পানি নাই। কোম্পানি আমাদের খোঁজখবরও নিচ্ছে না। আমরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে এসব অভিযোগ জানিয়েছি।

শ্রমিক মাসুদুর রহমান জানান, গত রমজান মাসে স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট থেকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বেতন বকেয়া থাকায় বর্তমানে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান। শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে দেশটিতে এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ভিসা পরির্বতনের সুযোগ রয়েছে। দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করা গেলে তারা অন্যত্র কাজ করার সুযোগ নিতে পারবে।

এদিকে রাষ্ট্রদূত আবু জাফরের নির্দেশে সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস শ্রমকল্যাণ উইং কাউন্সিলর (স্থানীয়) লুৎফুন নাহার নাজিমের নেতৃত্বে লেবার উইং কর্মকর্তারাসহ অসহায় শ্রমিকদের মাঝে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (স্থানীয়) শ্রম লুৎফুন নাহার নাজিম বলেন, সরকার সব সময় প্রবাসীদের পাশে আছে। যে কোনো সময় প্রবাসীরা বিপদে পড়লে আমাদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব।

তিনি আরো বলেন, আমরা ওই কোম্পানির শ্রমিকদের অভিযোগ পেয়েছি। মামলা নিষ্পত্তি করা দীর্ঘমেয়াদী কাজ। এটি প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে তারা খাদ্য সংকটে রয়েছে জেনে গত শুক্রবার দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি করোনাকালে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।