কেরানীগঞ্জে গণপরিবহনগুলো মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

bus
❏ মঙ্গলবার, মে ২৫, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ- সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে বেশিরভাগ জায়গায় গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৪মে) থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রত্যেক বাস ও মিনিবাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কেরানীগঞ্জে বেশিরভাগ জায়গায় তা মানতে দেখা যায়নি।

কঠোর নিষেধাজ্ঞায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু হলেও বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকদের থুতনির নিচে থেকে যাচ্ছে মাস্ক। হরেক রকম অজুহাতে বেশিরভাগ চালক ও কন্ডাক্টর মুখ ডাকছেন না মাস্ক দিয়ে। এছাড়াও বাসের কিছু কিছু যাত্রীদের মুখেও মাস্ক নেই।

তবে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালু করে দেওয়ার প্রথম দিন যাত্রী চাপ তেমনটা চোখে পড়েনি। আজ দ্বিতীয় দিনে তুলনামূলক যাত্রীর ভীড় বেশী থাকায় কিছু কিছু বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে সড়কে এমন চিত্র দেখা যায়।

কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক চললেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে একটি সিএনজিতে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে পাঁচজন নেওয়া হত এখনও সেভাবেই নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে বেড়েছে রিকশার চলাচল।

এছাড়াও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা থাকলেও, শারীরিক দূরত্ব না মেনে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এছাড়াও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা এজাতীয় কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

দিশারী পরিবহনের চালক রফিক মিয়া ঠিকভাবে মাস্ক পরেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। গরমে মুখ ঘেমে গেছে তাই মাত্রই নামিয়েছি।

আকাশ পরিবহনের হেলপারের মুহাম্মদ দিদার। থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছিলেন মাস্ক। কেন মাস্ক ঠিকভাবে পড়েননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। মাত্র একটু নাক থেকে নামিয়েছি। শ্বাস নিতে একটু সমস্যা হচ্ছিল তাই। তিনি আরও বলেন, সকালে বাস রাস্তায় নামার আগে পুরো বাসের সিটে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি। দূরুত্ব বজায় রেখে যাত্রীদের লাইনে গাড়িতে উঠাচ্ছি। পাশাপাশি দুই সিটের একটিতে যাত্রী নিয়ে অন্যটি ফাঁকা রেখে বাস চালানো হচ্ছে। কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন না। যাত্রীদের মাস্ক না থাকলে বাসে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরাম পরিবহণের এক হেলপার ধুমপান করতে দেখে, মাস্ক এর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, তার মাস্ক বাতাসে উড়ে গেছে। তাই এখন সিগারেট ধরিয়েছে।

বাসযাত্রী বেসরকারি কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর চালু করা হয়েছে দূরপাল্লার গণপরিবহন। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে এখন আর গাড়ির জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে না। তবে যে শর্তে সরকার গণপরিবহন চালু করে দিয়েছে তা মানা হচ্ছে না বাসগুলোতে।

উল্লেখ, সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের মধ্যে প্রায় ২২ দিন পর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাস মালিক, শ্রমিকদের দাবির মুখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে গণপরিবহন। এছাড়া দীর্ঘ ৪৯ দিন পর গতকাল সোমবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব পরিবহণ স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের কঠোর শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আনা হবে।