আতঙ্কিত মোংলার উপকূলবাসী, উদ্ধারকাজে প্রস্তুত কোস্টগার্ডের ২০টি নৌযান

water
❏ মঙ্গলবার, মে ২৫, ২০২১ খুলনা

মনিরুল ইসলাম দুলু, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি- সিডর, আইলা আর আম্ফান’র মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা বন্দর সংলগ্ন উপকুলের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক এখন ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।

প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানলে উপকুলীয় এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। তবে কোষ্টগার্ড, বন্দর ও উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় সকল ধরণের প্রস্তুতিই নেয়া হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য।

সকাল থেকে বন্দরে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ ও পশুর চ্যানেলে থাকা লাইটার ও কার্গো জাহাজসহ সকল নৌযান সমূহকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ। কন্টোল খোলা হয়েছে বন্দরের দুইটি স্থানে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বন্দরের উপকুলীয় এলাকায় আঘাত হানলে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের জানমাল ও বন্দরের সকল স্থাপনা রক্ষায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা। এছাড়া, নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড ও বন বিভাগ তাদের জলযানগুলো বন্দর জেটিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিব উল আলম জানান, সাগর ও পশুর চ্যানেল প্রচন্ড উত্তাল। সাইক্লোন সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একটি মেডিকেল টিমসহ বন্যাদুর্গতদের জন্য খাবার সরবরাহের জন্য পৃথক পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ইয়াস পরবর্তী উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরনের জন্য একটি কার্গো জাহাজ ও ১০টি ট্রলার প্রস্তুত রেখে মোংরা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাই কোষ্টগার্ড সদস্যরা সকাল থেকেই সুন্দরবন সংলগ্ন সকল জেলেদের দ্রুত সরিয়ে নিরাপদে যাওয়া জন্য মাইকিং মাধ্যমে সতর্ক করেছে।

কোষ্টগার্ড বলছে, নৌ-পথে মানুষদের নিরাপদে সড়িয়ে আসার জন্য তাদের ১২টি ষ্টেশনে বড় ৪টি জাহাজসহ ২০টি জলযান প্রস্তুত রেখেছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় যে কোন পরিস্থিতিতে তাদের সদস্যরা দুর্যোগ কবলীত মানুষদের খাদ্য সামগ্রীসহ মেডিকেল টিম নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে, মোংলা উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসুচি (সিপিপি)’র ১৩২০ জন সেচ্ছাসেবক তাদের সাংকেতিক যন্ত্রপাতীসহ সিগনাল, উদ্ধার, আশ্রয়, প্রাথমিক চিকিৎসা ও ত্রান বিতরণের জন্য তাদের কাছে থাকা সকল সরঞ্জামাদী নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যে মোংলা উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষদের ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সংক্রান্ত তথ্য সার্বক্ষণিক তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এ স্বেচ্ছাসেবকরা।