🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইভ্যালিসহ দেশের ই-কমার্সে আরেকটা ‘ডেসটিনি চিত্র’র শঙ্কা রাব্বানীরসুবর্ণচরে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ, জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধনটাঙ্গাইলে চুরিকৃত স্বর্ণালঙ্কারসহ আসামি আটকনোয়াখালীতে ২৪ ঘন্টায় ১১৫ জনের দেহে করোনা, শনাক্তের হার ২৮.৬ শতাংশসৌদিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে ১৫ বছরের জেল ও জরিমানার ঘোষণামাদারীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত শ্রমিকলীগ সভাপতির মৃত্যুভয়ংকর হচ্ছে খুলনা বিভাগ, একদিনেই রেকর্ড ৩২ জনের মৃত্যুটাঙ্গাইলে নতুন করে ১৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত, ৩ জনের মৃত্যুইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্সে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা দিলো ব্র্যাক ব্যাংকনওমুসলিম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন-সংবাদ সম্মেলন, ৬ দফা দাবি

  • আজ বুধবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৩ জুন, ২০২১ ৷

কক্সবাজারের উপকুলে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে ২টি বিদ্যালয়ের ভবন

Cox's Bazar news
❏ বুধবার, মে ২৬, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি ভবন ও কিছু ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে জোয়ারের পানিতে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পানির তোড়ে দুইদিন ধরে বিদ্যালয়ের বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে গিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীতে চলে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বর্তমানে এই ভবনে প্রথম শ্রেণীতে থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হয়ে গেলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এসব শিক্ষার্থীর জীবন।

১৯৯১ সালে সৃষ্ট প্রবল শক্তিসম্পন্ন ঘূর্নিঝড়ের আঘাতে সারাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর এই অঞ্চলের মানুষের আশ্রয়ের জন্য ১৯৯৩ সালে সৌদি আর্থিক অনুদানে তিন তলা বিশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মান করে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে এই ভবনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে।

 এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ইয়াছিন নামের চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এলাকার একটি মাত্র বিদ্যালয় এটি। তিন কিলোমিটার এলাকজুড়ে আর কোন বিদ্যালয় নেই।এই বিদ্যালয়টি নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেলে আমাদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে। পড়ালেখা করতে হলে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পায়ে হেঁটে অন্য এলাকার বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়তে হবে।

 বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, আমরা নদীর পাড়ে অনিরাপদে থাকি। ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় হলো সাইক্লোন শেল্টার। ঘূর্ণিঝড়ের সময় মাইকিং করলে আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেই। আবার বিপদ কেটে গেলে বাড়ি চলে আসি।গত এক বছর ধরে এই আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উঠতে ভয় হয়। কারন কখন যে সেটি ভেঙ্গে মানুষের মাথায় পড়ে। তখন জান বাঁচাতে গিয়ে জানটা না শেষ হয়।

 সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলুল হক বলেন, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া এলাকায় বসবাসরত ১০ হাজার মানুষের একমাত্র  আশ্রয় কেন্দ্র এবং এক হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য একমাত্র ভবন ২টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায় সরকার এই ভবন রক্ষার উদ্যোগ গ্রহন না করলে অনতিবিলম্বে ভবন ২টি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে একদিকে এলাকার ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে, অন্যদিকে বর্ষায় উপকূলীয় মানুষ আশ্রয়ণ ঝুঁকিতে থাকবে।

 এ বিষযে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বলেন, এই সাইক্লোন শেল্টারটি রক্ষার জন্য একটি প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। যা খুব শীগ্রই বাস্তবায়ন করা হবে।

 কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, জালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষার জন্য সরেজমিনে গিয়ে একটি নকশা ডিজাইন করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের চারপাশের ৩শ মিটার জায়গা জুড়ে পানি রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হবে। খুব শিগগিরই জিও ব্যাগ দিয়ে বিদ্যালয় দুটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে।