নোয়াখালী সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে একটি গ্রাম প্লাবিত

Naokhali news
❏ বুধবার, মে ২৬, ২০২১ ঢাকা

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, স্টাফ রিপোর্টারঃ  একদিকে করোনায় ঘরবন্ধী খেটে খাওয়া মানুষ,  অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জোয়ারের পানির নিচে ঘরবাড়ী এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ!

দীর্ঘদিন বেড়িবাঁধের দাবী জানিয়ে আসলেও আলোর মুখ দেখেনি গ্রামবাসী। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। অনেকেই বাস করছেন খোলা আকাশের নিচে।

বেড়িবাঁধ কাজের টেন্ডার হলেও দির্ঘদিন ধরে ঠিকাদার কাজ করছেনা বলে অভিযোগ করেন নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা (এক্সিন)  নাসির উদ্দিন।

বেড়িবাঁধ করে নিজেদের বাঁচাতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি দাবী জানিয়েছেন তারা।  তবে আশার বাণী শোনালেন সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন।

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়ের মধ্যম বাগ্যা গ্রামটির অধিকাংশ এখন পানির নিচে, অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসল, গবাদি পশুও রাখার জায়গা পাচ্ছেনা কৃষকরা,  দূর্ভোগেরর যেন শেষ নেই তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত  স্থানীয় বাসিন্ধা আব্দুর রব বলেন, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার থেকে একরাম নগর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলো মিটার গ্রাম এখন পানির নিচে।  একাধিকবার দাবী জানালেও আজ পর্যন্ত কোন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি এখন পানির নিচে, প্রতিদিন ভেঙ্গে যাচ্ছে বেড়িবাঁধের অংশ,  আতঙ্কে দিন কাটছে অসহায় মানুষের।

কৃষক চৌধুরী মিয়া জানান, জোয়ারের ফলে তার পানের বরজটি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায় এতে তার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।

গৃহবধূ সালমা বলেন, জোয়ারের পানিতে বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায়  আমরা বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভুগছি গৃহপালিত হাঁস, মোরগ গরু ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

পানিতে আটকা পড়া গ্রামবাসিরা বলেন, ৪ বছর ধরে জোয়ারের পানিতে আমাদের ঘর বাড়ি ডুবে যায়, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় তবুও কোন প্রতিকার আমরা পাচ্ছিনা, বেড়িবাঁধ হলে আমাদের দূর্ভোগ লাগব হবে।

২৬ মে (বুধবার) বিকেল ৩ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেয়া যায় ঝড়ে ঘর বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে একটি পরিবার, ৫০ টিরও অধিক ঘরবাড়ী পানির নিচে, ঘন্টায় ১/২ মিটার করে ভাঙ্গছে অবশিষ্ঠ বেড়িবাঁধটি,  পানির কল গুলো তলিয়ে আছে জোয়ারের পানিতে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় মনবেতর জীবন যাপন করছেন চর মধ্যবাগ্যা ও দক্ষিণ বাগ্যা গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিল বলেন, বেড়িবাঁধের জন্য টেন্ডার হয়েছে কিন্তু করোনার ধোহাই দিয়ে ঠিকাদার কাজ করছেনা তবে বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ঠিকাদার কাজ শুরু করবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পানি বন্ধী মানুষদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ত্রাণ সমগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামি যুবলীগের যুগ্নআহবায়ক ও চরজুবিলী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  আমির খসরু বলেন, আমরা কাজটি সম্পন্ন করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি, অতিদ্রত কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলমান আছে।

৫নং চরজুবিলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী বলেন, বেড়িবাঁধ কাজের সকল পক্রিয়া শেষ,  আগামি কয়েক মাস পর কাজটি শুরু হবে।

নোয়াখালী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা (এক্সিন) নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা কাজটির টেন্ডার দিয়েছি কিন্ত ঠিকাদার শুধু বেড়িবাঁধ করতে রাজি নয়, কারন শুধু বেড়িবাঁধ করলে সেটি বেশিদিন স্থায়ী হবেনা সেজন্য ব্লকও করতে হবে।  আগামি বছর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, তবে আমরা ঠিকাদারকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেড়িবাঁধ নির্ণামের জন্য তাগিদ দিচ্ছি।

খবর পেয়ে মধ্যেম বাগ্যা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল হাসান ইভেন, তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে,  কাজটি আরো আগেই হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু কি কারনে কাজটি হচ্ছেনা সেটি খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। যারা পানি বন্ধী আছেন তাদের জন্য প্রর্যাপ্ত ত্রাণ সমগ্রী ইউনিয়ন পরিষদে দেয়া হয়েছে।