নদীতে জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে বাউফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Bhaopal news
❏ বুধবার, মে ২৬, ২০২১ বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল,(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:  ঘুর্ণিঝড় ইয়াশ আর পূর্ণিমার প্রভাবে নদ নদীতে পানির অস্বাভিক বৃদ্ধির কারণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল বেরিবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে পুকুরসহ খামাড়িদের ঘেরের মাছ। ডুবে গেছে সবজির খামার। নিম্নাঞ্চলের টিউবয়েল ডুবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঘুর্ণিঝড় ইয়াশ আর পূর্ণিমার প্রভাবে নদ নদীতে পানির অস্বাভিক বৃদ্ধিতে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বেরিবাঁধ ভেঙ্গে নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকাই ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির চাপে শত শত পুকুর ও ঘের থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অভাব দেখা দিয়েছে পশু খাদ্যের। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে টিউবয়েল ডুবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তলিয়ে গেছে সবজির ক্ষেত। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ধুলিয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর, কাছিপাড়া এবং কালাইয়া ইউনিয়নের একাংশের। ধুলিয়া ও কেশবপুরের রাস্তাঘাট তলিয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেওয়া হচ্ছে। এই মুহুর্তে সঠিক হিসাব নিরুপন করা না গেলেও প্রাথমিক ভাবে ৬টি ঝুঁপড়িঘর বিধ্বস্ত ও রায়সাহেব চরের গুচ্ছগ্রামের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাজিরপুর চর মিয়াজান এলাকার প্রায় ২শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে ।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যেই চর ও নিম্নাঞ্চলের ১হাজার ২শ ৬৫টি পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমারা সরেজমিন প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামন হিমু জানান, সরেজমিন মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে চর ও নিম্নাঞ্চলের চিনাবাদাম, মরিচ, তিল, মিষ্টি আলুসহ কিছু খরিপ ফসলসহ ঢেঁড়স, কুমড়া, করলা, পেঁপে, পুইশাকের মতো শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে।  তবে ক্ষয়ক্ষতির নিরুপণ করা হচ্ছে।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাচ মোল্লা জানান, তার ইউনিয়নে বেরিবাঁধসহ সড়ক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সব চেয়ে বেশি। পানির চাপে সেনিটেশন ব্যবস্থা পড়েছে হুমকির মুখে। বিশুদ্ধ পানির জন্য যে কয়টা টিউবয়েল রয়েছে তা এখনও পানির নীচে। চরের মানুষজন নদীর পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্গত চরাঞ্চল পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা করা হচ্ছে।