ভোলায় ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস”

Bhola news
❏ বৃহস্পতিবার, মে ২৭, ২০২১ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভোলার উপকূলীয় এলাকা। বিধ্বস্ত উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় পড়ে রয়েছে ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন।

ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, দোকানপাট ও গবাদিপশু হারিয়ে অনেকে এখন দিশেহারা। পানিবন্দি হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন পরিবারগুলো। এ অবস্থায় কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন এমন চিন্তার ছাপ তাদের চোখে-মুখে।

বিধ্বস্ত উপকূল ঘুরে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ সরাসরি আঘাত না হানলেও তার প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ভোলার উপকূল। চারদিকে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারো পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাগর উপকূলের দ্বীপচর চরফ্যাসনের ঢালচর ও কুকরি-মুকরিতে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ঝড়ের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি পুরো দ্বীপের মানুষ। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় ঠিকমতো রান্নাও হচ্ছে না। জীবন বাঁচাতে অনেকে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিলেও তারা হারিছেন সহায় সম্বল। একই অবস্থা মনপুরার বিভিন্ন দ্বীপচরের।

ঢালচরের বাসিন্দা আবদুর রহমান জানান, পুরো চরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ৫০টি ঘরবাড়ি। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ আর দোকানপাটের মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন কোনো ঘর নেই। বেশিরভাগ মাছের আড়ৎ ভেঙে গেছে।

চর শাহজালাল এলাকার বাসিন্দা নাছির বলেন, চরের শতাধিক ঘরের ক্ষতি হয়েছে। কারো ঘরে রান্না করার মতো পরিস্থিতি নেই। ঝড়ের সময় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু স্থানে গিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন।

ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা, চরজ্ঞান, সোনার চর, কুলাগাজীর তালুক, চর যতিন, চর শাহজালাল, চর নিজাম, কলাতলীর চরসহ অন্তত ৩০টি চরে চার থেকে পাঁচ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। ওইসব এলাকার মানুষ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

তথ্যমতে, ঝড়ে জেলায় ২৫০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়ে নিখোঁজ রয়েছে ১২০০ গরু-মহিষ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা -২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, চরফ্যাসন উপজেলার বেতুয়াসহ ৩টি পয়েন্টে ২৫০ মিটার এলাকা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বাঁধগুলো মাটি ও জিওব্যাগ দ্বারা মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়াও ২টি পয়েন্টে বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৩০০ মিটার মাটি ও সিনথেটিক ব্যাগ দ্বারা মেরামতসহ উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বিশেষ করে যারা পানিবন্দি অবস্থায় আছে তাদের মধ্যে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ তিন হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ এসেছে। আমাদের কাছে এক কোটি ৯২ লাখ টাকার মজুদ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।