🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৫ জুন, ২০২১ ৷

ঢাবি ছাত্র হাফিজুরের মৃত্যু তদন্তে গিয়ে ‘এলএসডি মাদক’ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

hafizur
❏ বৃহস্পতিবার, মে ২৭, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুরের মৃত্যু তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) মাদক উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। সেইসঙ্গে এ ঘটনায় তিনজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা হলেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুপল ও তুর্জ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আদিব।

তিনি জানান, এই মাদকটি (এলএসডি) নেদারল্যান্ড থেকে দেশে আনা হয়। দেশে এই ধরনের মাদক জব্দ করার ঘটনা এটিই প্রথম। ফেসবুকে দুটি পেজের মাধ্যমে এই মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করা হত। এই মাদকটির গ্রাহক বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আর এটি ড্রাগটি উচ্চবিত্তদের জন্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডিবি সূত্র বলছে, ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় তাঁর তিন বন্ধু এলএসডি সেবন করান। এর প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তিনি শুধু একটি শর্টস পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে তিনি নিজের গলায় আঘাত করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আট দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে হাফিজুরের ভাই তাঁর লাশ শনাক্ত করেন।

হাফিজের মৃত্যু, তাঁর চিকিৎসা এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে তাঁর লাশ আট দিন পড়ে থাকার ঘটনার তদন্ত দাবি করে আসছেন তাঁর সহপাঠীরা।

ডিবি পুলিশের দাবি, যে তিন বন্ধু হাফিজুর রহমানকে এলএসডি সেবন করিয়েছেন, তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ফার্মাসিউটিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া ড্রাগস ডটকমের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, লাইসারজিক অ্যাসিড থেকে তৈরি করা হয় এলএসডি। এই অ্যাসিড বিভিন্ন দানাদার শস্যে থাকা এরগোট ছত্রাকে পাওয়া যায়। ১৯৩৮ সালে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে প্রথম এলএসডি তৈরি হয়।

এটি এতই শক্তিশালী যে এর ডোজগুলো সাধারণত মাইক্রোগ্রাম হিসেবে নেওয়া হয়। এটি উত্তেজক, আনন্দদায়ক। মনের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। কখনো কখনো এর প্রভাবে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এমনটা ঘটলে একে ‘ব্যাড ট্রিপ’ বলা হয়।