• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

কিশোরী নির্যাতনের মূল অভিযুক্ত টিকটক হৃদয় ভারতে গুলিবিদ্ধ

Tiktok Ridoy news
❏ শনিবার, মে ২৯, ২০২১ আলোচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে ধৃত ৫ বাংলাদেশি নারী পাচারকারীর অন্যতম ঢাকার টিকটক হৃদয় ও আরও এক অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ। প্রতিবেশি দেশের কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, ধৃত টিকটক হৃদয় পালানোর চেষ্টা করে। তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। অভিযুক্তের পুরো নাম রিফাজুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক।

সূত্রের খবর, তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেছে বেঙ্গালুরু পুলিশের সঙ্গে। টিকটক হৃদয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে। অপহৃতা কিশোরীর সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশি কিশোরীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে ওই কিশোরী ও নির্যাতনকারীরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে চিহ্নিত হয়। সেই ভিডিও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ খতিয়ে দেখে। জানা গিয়েছে অপহৃত কিশোরী কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। কাজের সন্ধানে সে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ঢাকায় তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে যায় এই নারী পাচারকারী দল।

খবর এসেছে, বিবস্ত্র করে ওই কিশোরীকে নির্যাতন, ধর্ষণ করে ঢাকার টিকটক হৃদয় ও তার সাগরেদরা। কেরল থেকে তাকে কর্নাটকে নিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে। ঢাকা পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে সেখানকার পুলিশের দল কেরলের কিছু স্থানে অভিযান করছে। এই পর্যায়ে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয় মূল অভিযুক্ত টিকটক হৃদয় ও তার এক সাগরেদ সাগর। দুজনেই ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা।

তাদের অনবরত জেরা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, কিশোরীকে উদ্ধারের পর আইন মাফিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে কর্নাটকের পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, ভারতে যৌন নির্যাতনের শিকার ওপর কিশেরীর বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ২০১৪ সালে কুয়েত থাকা এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সেই বিয়ে শ্বশুরবাড়ির কেউ মেনে নেয়নি। প্রায় ৫ বছর পর পর্যন্ত বাপের বাড়ি কিশোরঞ্জেই ছিল। সৌদি আরবে কাজের জন্য দালাল চক্রকে টাকা দেওয়ার নাম করে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয় সেই কিশোরী।

তদন্তে উঠে এসেছে ঢাকায় আসার পরেই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় টিকটক হৃদয় গ্যাংয়ের সঙ্গে। তাকে প্রেমে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করা হয়। তার আগে গণধর্ষণের শিকার হয় কিশোরী। ভারতে ধরা পড়া অভিযুক্ত ও কিশোরীকে বাংলাদেশে দ্রুত আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা হবে। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ইন্টারপোলের।