🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৫ জুন, ২০২১ ৷

স্বামীকে হত্যার আগ পর্যন্ত আছমা ৭১ বার মোবাইলে কথা বলেন ইমামের সাথে

Hujur
❏ শনিবার, মে ২৯, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদে ছয় টুকরো করে হত্যা করা আজহারুলকে এর আগেও একবার হত্যার চেষ্টা করেছিল নিহতের স্ত্রী আছমা আক্তার (২৪) ও তার পরকীয়া প্রেমিক মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান (৫৪)। এমনটাই দাবি করেছেন নিহত আজহারুলের পরিবারের লোকজন।

এমনকি আজহারুলকে হত্যার জন্য আছমা (০১৩২২৫৪ ____) নম্বর দিয়ে ইমামের সাথে ৭১ বার মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন নিহতের চাচাতো ভাই মোঃ হাফিজ উদ্দিন।

নিহতের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকে পাথর হয়ে গেছে আজহারুল ইসলামের বৃদ্ধা মা সালেহা বেগম। ছেলেকে হারিয়ে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। পাশেই বসে আছেন নিহতের বাবা জুলহাস উদ্দিন, চাচাতো ভাই হাফিজ উদ্দিন এবং ভাতিজা লিসান উদ্দিন।

নিহতের বাবা জুলহাস উদ্দিন জানান, ৫ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে আজহারুলকে খুব আদর করতেন সবাই। লেখাপড়ায়ও খুব ভাল ছিল সে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মেঝো ছেলে সাহাবুদ্দিনের সাথে আসমার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই/তিন মাস পর তারা জানতে পারেন এর আগেও একই উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে এক ছেলের সাথে আছমার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়ের দুইদিন পরই আছমা চলে আসে স্বামীর সংসার ছেড়ে। এরপর আছমা ওই স্বামীর ছোট বোনের স্বামীর সাথে পরকীয়া করে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। সেই বিয়েও মাত্র এক থেকে দেড় মাস টিকেছে।

এসব কিছু গোপন রেখে আছমার বাবা আশরাফ আলী গোপন রেখে তার (জুলহাস) ছেলের সাথে আছমার বিয়ে দেন। তবে বিয়ের পর এত কিছু জানার পরও জুলহাস উদ্দিনের পরিবার আছমাকে ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই আছমা ও আজহারুল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন সাহাবুদ্দিনকে তালাক দিয়ে আছমা আজহারুলকে বিয়ে করেছেন। এরপর থেকে তাদের সাথে আর যোগাযোগ রাখেননি জুলহাস উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন।

তিনি আরো জানান, হঠাৎ করেই রোজার আগে খবর পান আজহারুলকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে আজহারুল ও আছমাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে রেখেই আজহারুলকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

একটু চলাচল করার পর হঠাৎ করেই ১৭ মে আছমা আজহারুলকে ঢাকায় যেতে চাপ দিতে থাকে। এ কারণে আজহারুল পরদিন ১৮ মে ঢাকায় যেতে রাজি হন। এই অসুস্থার মধ্যে ঢাকা যাওয়া নিয়ে আজহারুলকে তার মা কয়েকবার বাধাও দেন। কিন্তু আছমার পিড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় রওনা হয় আহজারুল। এসময় আছমা তার স্বামী আজহারুলকে ৫০০ টাকাও দেন গাড়ি ভাড়া বাবদ।

আজহারুলের চাচাতো ভাই মোঃ হাফিজ উদ্দিন জানান, (মঙ্গলবার) ১৮ মে আজহারুর ঢাকা যাওয়ার পর আছমা তাদের বাড়িতেই ছিল। পরদিন বুধবার (১৯ মে) আজহারুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আছমা তার বাবা আশরাফ আলীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। দুইদিন পর তারা দুজনে ফিরে আসেন এবং আশরাফ আলী তার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি রেখে তড়িঘরি করে চলে যান। ২৫ মে তারা জানতে পারেন দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পাওয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে পরিবারের লোকজন ঢাকায় রওনা হলে রাস্তা থেকেই র‍্যাব আছমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে তারা যানতে পারেন এই হত্যার সাথে আছমা ও ইমাম জড়িত।

আজহারুলের ভাতিজা লিসান উদ্দিন জানান, র‍্যাবের মাধ্যমে জানতে পারেন আছমা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন এবং মোবাইল ফোনটি আজহারুলের বাড়িতেই রয়েছে। এ কথা শুনে পরিবারের সবাই হত্যার পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোঁজাখুজি করতে থাকেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ব্যাটারী এবং সীম বিহীন একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন পান। পরে সেটি র‌্যাবের কাছে জমা দেন তারা।

তিনি জানান, আছমা যে নম্বর দিয়ে ইমামের সাথে কথা বলেছেন (০১৩২২৫৪____) সেই সীম কার্ডটি এখনো উদ্ধার হয়নি। তাদের ধারণা আজহারুলকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সীম কার্ডটি কোথাও ফেলে দিয়েছে আছমা আক্তার।

আজহারুলের হত্যার সাথে জড়িত আছমা ও মসজিতের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।