🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৫ জুন, ২০২১ ৷

মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও আগুনে পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে বসবাস ভিক্ষুকের

fire
❏ শনিবার, মে ২৯, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি- আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে মানসিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফিরোজার (৪৫) মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু। সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব, সর্বশান্ত। অভাবের কড়া নাড়ছে তার দুয়ারে।

গত ৮ দিন ধরে প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছেলে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিনি আহাজারি করছেন। কিন্তু তাদের পাশে এখনো দাঁড়ায়নি কেউ।

গত শুক্রবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেলান্দহ পৌরসভার শাহজাদপুর কসাইবাড়ি এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনাটি ঘটে। ফিরোজা ওই গ্রামের মৃত কালু শেখের স্ত্রী।

আগুনে পুড়ে তার থাকার ছাপড়া ঘরে, চাল, নগদ ৫ হাজার টাকা, ভোটার আইডি কার্ড, মেয়ে আইডি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, কাপড়-চোপরসহ সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুন লাগার দিন স্থানীয়রা মেলান্দহ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও আগুন থেকে রক্ষা করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এলাকায় একজন ৫ কেজি চাউল দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু দু’মুঠো খাবার জুটলেও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার ব্যপারে এগিয়ে আসেননি কেউ। এখন কি করবেন, নিয়ে কোথায় থাকবেন? দিশেহারা হয়ে গেছেন অসহায় পরিবারটি।

শনিবার (২৯ মে) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুই সন্তান নিয়ে কান্নাকাটি করছেন ফিরোজা। আশপাশের লোকজন যে যা দেয় তাই খেয়ে অতিকষ্টে তাদের দিনরাত কাটছে। রাতে পাশে একটি রান্নাঘরে গিয়ে ঘুমান দুই সন্তান নিয়ে।

এ সময় ফিরোজা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ৬ মাস আগে অনেক ধার-দেনা করে ঘরটা তোলা হয়েছিল। আগে ঢাকাতে থাকতাম, অন্যের বাসায় কাজ করে কিছু টাকা জমা করে বাড়িতে ঘরটা করা হয়। বাড়িতে এসে ভিক্ষা করে দিন চলছিল, ভিক্ষা করা ৫ হাজার টাকাও ঘরে ছিল, সেই টাকা টাও বের করতে পারিনি। সে টাকা টাও পুড়ে গেল, এখন আমাদের কি হবে..!

এলাকার স্থানীয় আক্তার হোসেন বলেন, অসহায় পরিবারটি খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ফিরোজা মানসিক রোগী অনেক আগেই স্বামী মারা গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ঢাকাতেই থাকতো। ছয় মাস আগে এলাকায় এসে মানুষের কাছ থেকে, কিছু সহযোগিতা নিয়ে ও তার জমানো টাকা দিয়ে ঘর তৈরি করেছিল।

ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ বাদশা বলেন, ঘর কবে পুড়েছে বিষয়টি আমি জানি না মাত্র জানলাম। আমি যতটুকু পারি আমি তাকে সহযোগিতা করব।

এ প্রসঙ্গে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকান্ডের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে ওই অসহায় পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করবো।