• আজ বুধবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৩ জুন, ২০২১ ৷

এক দিকে কউকের উচ্ছেদ, অপর দিকে চলছে অবৈধ নির্মাণ কাজ!

Cox's Bazar news
❏ শনিবার, মে ২৯, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রভাবশালীর ভবন উচ্ছেদ না করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভবনটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মনে এখন একটি প্রশ্নই ‘কি আছে ওই ভবনে?’ যে ভাঙা হচ্ছে না। ভবনটির মালিক হলেন- সদরের খরুলিয়া এলাকার প্রবাসী হেলাল উদ্দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ মে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপ সচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদের নেতৃত্বে কটেজ জোনের বেশ কয়েকটি নির্মানাধীন ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসময় কটেজ জোনের উত্তর পাশে ১০টি অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু সী-শার্ক রিসোর্টের সামনে অবস্থিত প্রবাসী হেলালের “হেলাল রিসোর্ট” ভবনটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হলেও ভাঙা হয়নি।

স্থানীয়দের মনে সন্দেহ ছিল এবারও হেলাল রিসোর্ট ভবনটি ভাঙা হবে না। বাস্তবে তাদের ধারণা সঠিক হয়েছে। ভবনটি না ভেঙে অভিযান শেষ করে কউক। উল্টো অভিযানের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই পুরোদমে নির্মান কাজ শুরু করে হেলাল রির্সোট। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় এক দোকান মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শহরে গরিব মানুষরা রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের সব দোকানপাট ভেঙে দেয়া হয়েছে। কিন্তু চিহ্নিত সন্ত্রসীদের দিয়ে দিনেদুপুরে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হেলাল রিসোর্টটিসহ অনেক ভবন ভাঙা হয়নি। গত এক বছরে অনেক ভবন উচ্ছেদ করা হলেও ওই ভবন ঠিকই রয়ে গেছে। এ নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে রিসোর্টটিতে পুরোদমে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর কাজটির সমন্বয় করেছে কটেজ জোনের চিহ্নিত দালাল আবুল। শুধু তাই নয়, কউকের উচ্ছেদ অভিযান শেষ না হতেই বীরদর্পে চলছে অবৈধ ভবন নির্মানের কাজ। উচ্ছেদ অভিযানকে নিয়ে এক প্রকার চলছে জেন ইঁদুর-বিড়ালের খেলা। উচ্ছেদ অভিযানের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই ১০/১৫ শ্রমিক দিয়ে নতুন ভাবে কাজ করছে হেলাল রিসোর্ট এর তৃত্বীয় তলায়। সী-শার্ক রিসোর্টের সামনে কটেজটি গেইটে তালা লাগিয়ে ছাদের উপর চলছে এসব অবৈধ ভবন নির্মানের কাজ।

স্থানীয়রা বলছেন, হেলাল রিসোর্ট সরকারি দপ্তর ম্যানেজ করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দিন-দুপুরে। কেন না কটেজ জোন এলাকায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে রয়েছে আবুল ও রহিম কন্ট্রাক্টর। যার ফলে যেসব স্থাপনা নির্মানের তাদের হাত থাকে সেগুলো কখনো অভিযান হয়না বলে জানা রয়েছে হোটেল মোটেল জোনে।

অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে- কটেজটির মালিক সংশ্লিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দিয়ে এই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। আর কাজটির সমন্বয় করেছে কটেজ জোনের চিহ্নিত দালাল আবুল।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল কন্ট্রাক্টর বলেন, অভিযানের পর আমি কাজ করছি না। তবে কটেজ জোনে কিছু কিছু কাজ করে অনেকের সংসার চলে। তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি দপ্তর ম্যানেজ করিনা না। তবে সাংবাদিক সহ অনেকে আমার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সে জায়গা থেকে কথা বলি।

জানা যায়, লাইট হাউজ কটেজ জোনে গণপূর্তের জমিতে অবৈধ ভবন নির্মানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গণপূর্তের পাশেই তাদের জমিতে ভবন নির্মানের কাজ করলেও নিরব ভূমিকায় রয়েছিলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রমতে, এসব বাতিলকৃত প্লটে নির্মান কাজ বন্ধ থাকার শর্তে রয়েছে উচ্চ আদালতে মামলা। বাতিলকৃত সৈকত বহুমুখী সমিতির প্লটে আদালতের নিশেদজ্ঞা অমান্য করে নির্মান কাজ চালাচ্ছেন আবুল-রহিম কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বে। উন্নয়ন কতৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, গণপূর্তের বাতিলকৃত প্লট গুলোর নির্মানাধীন ভবনে অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপ সচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ বলেন, হেলাল রিসোর্টের নির্মান কাজের বিষয়ে খোজঁ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তিনি আরোও বলেন, দুই দিন আগে অনুমদহীন ১২ টি নির্মানাধীন ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনে বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে দেয়া হয়।