সীমান্তের সাত জেলায় লকডাউনের সুপারিশ


❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ভারতের সীমান্তবর্তী সাত জেলা লকডাউনের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি।

লকডাউনের সুপারিশকৃত সীমান্তবর্তী সাত জেলা হলো- নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনা। গতকাল বিকালে এই সাতটি জেলা লকডাউনের সুপারিশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। আজ রোববার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শনিবার এক বৈঠকে বিশেষজ্ঞ কমিটি সীমান্তের জেলায় লকডাউনের সুপারিশ করেছে। এসব জেলায় সংক্রমণ বেশি। এ ছাড়া নোয়াখালী ও কক্সবাজারের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি। বিশেষজ্ঞ কমিটি এ সুপারিশ আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানাবে। মন্ত্রণালয়ে আজ বিকেলে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সাত জেলার লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ২৪ মে রাত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এক সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। লকডাউন চলাকালে সংবাদপত্র, রোগী বহনকারী গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে।

তবে ট্রেনসহ দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি দেশের যেকোনো স্থান থেকেও যানবাহন এই জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ঢিলেঢালাভাবে চলা লকডাউন বা চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দুপুর নাগাদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধসহ সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। সেই বিধিনিষেধ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়।

কিন্তু সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেয়া হয় কঠোর লকডাউন। এরপর সেটা কয়েক মেয়াদে বাড়িয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিধিনিষেধ আরও এক দফা বাড়ানো হতে পারে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লকডাউন অনেকটা শিথিল হয়ে এসেছে। ঈদ ছুটি পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়।

তবে ২৩ মে থেকে আন্তজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে। হোটেল ও খাবারের দোকানে আসনসংখ্যার অর্ধেক গ্রাহককে সেবা দেয়ার সুযোগ রেখেছে সরকার।