স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ পেছাতে পারে


❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আগামী ১৩ জুন স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা পিছিয়ে যেতে পারে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসলে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

রোববার (৩০ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে ১৩ জুন খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গত ২৬ মে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী একথা বললেও শনিবার (২৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা যে তারিখই নির্দিষ্ট করি না কেন, সেই সময়ের আগে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি নেবো না।

স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ রেখেছি। তাতে মানুষের চলাচলের প্রয়োজনীয়তা বা বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা স্বস্তিদায়ক।

সংক্রমণের বতর্মানের ট্রেন্ডে স্কুল-কলেজ খোলাটাও পিছিয়ে যেতে পারে- এ প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটি তাদের বিষয়। উনি বলেছেন এটা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত খুলবে না।

তাহলে ৫ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত লকডাউন থাকবে- অপর এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন। যদিও আমরা বিকল্প ব্যবস্থাগুলো চিন্তা-ভাবনা করছি স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে। যে রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে অনলাইন পরীক্ষা, অনলাইন ক্লাস চলমান।

‘সেক্ষেত্রে আমরা দেখি, অবস্থা বুঝে…, আমাদের ছাত্র সংখ্যা অনেক বেশি। যখন তারা স্কুলে আসবে তখন সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাবে। আমাদের বিধিনিষেধ থাকার কারণে কিন্তু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ’

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন বলে জানালেন ফরহাদ হোসেন। বলেন, ‘প্রত্যেকেই সচেতন হয়েছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে আসছেন না। এটি অবশ্য ভালো লক্ষণ। তারপরেও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

সংক্রমণের মাত্রা এখন ৮ থেকে ৯ শতাংশের ওপরে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি সমস্ত কিছু বিবেচনা করে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় কারিগরি কমিটির পরামর্শক্রমে সরকার আরও এক সপ্তাহ চলমান বিধিনিষেধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সরকারের জরুরি সেবা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি অফিস যেগুলো জরুরি সেগুলো খোলা আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পরিচালনা করছি।’