পরকীয়ার কারণেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আব্দুর রহমানকে, রহস্য উদঘাটন

rahman
❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ধানক্ষেত থেকে গলিত ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের এক সপ্তাহেই চাঞ্চল্যকর আব্দুর রহমান হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

জমি-জমা সংক্রান্ত দ্বদ্ব ও খালাতো ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যে পরকিয়া প্রেমিকাসহ মামলার চার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেমিকা আয়শা খাতুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। রোববার (৩০ মে) দুপুরে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (২৯ মে) বিকেলে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানির কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন আয়শা খাতুন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আয়শার দেয়া জবানবন্দীতে জানা যায়, এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারান আয়শা খাতুন। তাদের বাড়িতে স্বামীর খালাতো ভাই আব্দুর রহমানের আগে থেকেই যাতায়াত ছিল।

স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিষয়টি টের পেয়ে আয়শার দেবর নজরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়। এরপর নজরুল আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে যুক্ত করে আয়শার ছোট ভাই আনিছ প্রামানিককে।

তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক বুধবার (১৯ মে) গভীর রাতে আব্দুর রহমানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসেন আয়শা। এরপর তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশের মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে পাশের গোপিনাথপুর গ্রামের ধান ক্ষেতে লাশ ফেলে দেয়।

এসআই খলিল বলেন, চর বেলতৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শামছুল প্রামানিকের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৮) গত ১৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর রোববার (২৩ মে) ধানক্ষেত থেকে আব্দুর রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই শাহজাহান প্রামাণিক বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই মামলার আসামী নিহতের চাচাতো ভাই আবুল কালাম (৪৫), আব্দুস সালাম (৫০) ও মনিরুজ্জামান (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার (২৮ মে) গভীর রাতে আয়শা খাতুনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। এরপর শনিবার (২৯ মে) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আব্দুর রহমানের বন্ধু নজরুল ইসলাম (৩৫) ও আয়শার ছোট ভাই আনিছ প্রামানিক (২৫) কে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, পরকিয়া প্রেম ও চাচাতো ভাইদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তবে এ হত্যকান্ডের সাথে আরও অনেকেই জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।