🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

বিআরটিসির দখলে ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঘটছে দুর্ঘটনা

brtc
❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ ময়মনসিংহ

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার- ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাসকান্দা-দিকারকান্দার পাশে সারিবদ্ধ করে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাস। দুই লেনের এই মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য বাস, ট্রাক, মাহিন্দ্র, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে চলাচল করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের রাস্তা দখল করে বিআরটিসির বাসগুলো রাখার ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ প্রাণহানির ঘটনা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা রুটে ১৬টি বাস চালুর মধ্য দিয়ে বিআরটিসি বাস সেবা চালু হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রুটে চালু করা হয় বিআরটিসির মোট ৪৭টি বাস। অন্যান্য সময় বাসগুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করলেও করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে বাসগুলো বন্ধ ছিলো। তবে, আবারও সড়কে চলাচল করছে বিআরটিসির বাসগুলো। সময়ের ব্যবধানে এরই মধ্যে বাসের সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে ২৮টি বাস জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করছে।

মাসকান্দা এলাকার স্থানীয় হোসেন মিয়া, জামাল উদ্দিন ও খসরু নামের কয়েকজন জানান, এই মহাসড়কটিতে দ্রুত গতিতে দিনরাত সবধরণের যানবাহন চলাচল করে। বিআরটিসি বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে রাখার ফলে দুই লেনের এই মহাসড়কটির দুপাশে জায়গা কম থাকে। ফলে পথচারীদের সবসময় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পাল্লা দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজি, মাহিন্দ্র, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে পথচারীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে যানবাহনের চালকসহ পথচারীরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সিএনজি চালক আরিফুল ইসলাম জানান, গত শনিবার রাত আটটার দিকে যাত্রী নিয়ে যাওয়া সময় পিছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক একটুর জন্য চাপা দিয়েছিল। কারন বাসগুলো সড়কে রাখার ফলে সড়ক সরু হলেও যানবাহনের সংখ্যা কমেনি। দুর্ঘটনা এড়াতে বিআরটিসির এই বাসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিআরটিসি বাসের একজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪টি বাস থেকে ২৬টি চাকা ও ২৪টি ব্যাটারি ছাড়াও অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। রাস্তার পাশে বাস রাখার ফলে অনেকে যন্ত্রাংশ চুরি করতে চেষ্টা করে। এছাড়া সড়কজুড়ে বাস পড়ে থাকার ফলে বাসগুলো বৃষ্টিতে ভিজে ও রৌদ্রে পুড়ে রং নষ্ট হচ্ছে। এজন্য বাসগুলো দ্রুত ডিপোতে রাখা প্রয়োজন।

brtc

বিআরটিসি ময়মনসিংহের ম্যানেজার মো.কামরুজ্জামান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের দুপাশে বাসগুলো আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই রেখেছি। নগরীর শম্ভুগঞ্জে বাসগুলো রাখার জন্যে ডিপো তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব না থাকলে বর্তমানে বাসগুলো ডিপোতেই থাকত। আগে ৪৭ বাস থাকলেও এখন ২৮টি বাস চলার কারণ জানাতে পারেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, নগরীর শম্ভুগঞ্জে ডিপো নির্মাণের কাজ দেরি হওয়ার মাসকান্দা এলাকার আশপাশে জায়গা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। আমরা চেষ্টা করছি মহাসড়কের পাশ থেকে গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য।

বাংলাদেশ এ্যাম্বুলেন্স চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের বসবাস ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা শান্তিনগর এলাকায়।

তিনি বলেন, নগরীর পাটগুদাম মুক্তিযোদ্ধাপল্লি এলাকায় ভাঙারির দোকান করতেন সুজন নামে এক যুবক। এ দোকানের আয় দিয়েই পরিবারের ভরনপোষণ চলত। গত ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকানের কর্মচারী সুমনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে করে বাইপাস এলাকায় একটি দোকানে পাওনা টাকা আনতে যাচ্ছিল সুজন। বিআরটিসি বাসগুলো মাসকান্দা শান্তিনগর এলাকায় রাখা ছিলো। ফলে মোটরসাইকেল চালিয়ে এ এলাকা পর্যন্ত আসা মাত্রই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনই নিহত হয়।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক দখন করে বিআরটিসি বাসগুলো রাখার ফলে দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত যাত্রীসহ চালকরা আহত হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এ্যাম্বুলেন্স অটোরিকশাতে ধাক্কা লেগে অটোরিকশার দুইজন যাত্রী আহত হয়েছে। মহাসড়কের পাশ থেকে বিআরটিসি বাসগুলো দ্রুত সরানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জেনারেল ম্যানেজার (হিসাব) মো. আমজাদ হোসেন সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বাসগুলো মহাসড়কের পাশে রাখার ফলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কাসহ যন্ত্রাংশ চুরির সম্ভাবনা রয়েছে জানি। এছাড়া খোলা স্থানে গাড়ি থাকার ফলে রৌদ্রে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ির রঙ্গের সমস্যা হয়। তবুও ডিপো না থাকার কারণে রাখা হয়েছে। ডিপো তৈরীর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক বিষয়। মূলত যাত্রীদের চাহিদার উপর বাস কয়টি দেওয়া হবে তা নির্ভর করে। বর্তমানে বিআরটিসি বাসের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।