করোনা ও বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সফল: কৃষিমন্ত্রী

abdur razzak
❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ জাতীয়

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- মহামারি করোনা ও বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঠিকভাবে তিনি দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

রবিবার (৩০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মাসিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গত ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছি। করোনার শুরুতে সবাই ধারণা করেছিল, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতায় বাংলাদেশে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিবে। হয়তো দেখা দিবে দুর্ভিক্ষ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা আর প্রজ্ঞায় তা হয়নি। তিনি করোনার শুরু থেকেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বার বার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলেই বাংলাদেশে খাদ্য নিয়ে কোন হাহাকার হয়নি, সংকট হয়নি খাদ্যের।

‘সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও (এফএও) করোনাকালে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশংসা করেছে। মহামারি করোনাকালে খাদ্য নিয়ে মানুষকে যাতে আতঙ্কে থাকতে না হয়। খাদ্যের যাতে কোনো অভাব না হয়। সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের চাহিদা মেটাতে আমাদের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে। দেশে অনেক উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। ব্রি-৮১, ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ জাতের ধানের ফলন অনেক বেশি। এ জাতগুলো চাষের মাধ্যমে দেশে নতুন করে সবুজ বিপ¬ব ঘটবে। দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেকগুণ বাড়বে ও ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট হবে না।

তিনি বলেন, কৃষি সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। নতুন নতুন সমস্যা আসবে। সেসব সমস্যা মোকাবিলা ও কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সকলকে কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান হয়ে কাজ করতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিবেদিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোকে কৃষিতে ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা আগ্রহ নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করবে তাদেরকে অবশ্যই কৃষি মন্ত্রণালয় পুরস্কৃত করবে। কৃষি হলো প্রকৃতি ও মৌসুম নির্ভর। এ কৃষিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এনে দিয়েছিলেন একটা নতুন দিগন্ত। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জোটের শাসনামলে সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা হয় নাই, বরং কৃষিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। সেদিনই নির্বাচনী ইশতেহারে জাতির কাছে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো। দারিদ্র্যতা কমিয়ে নিয়ে আসবো, এমডিজি গোল অর্জন করবো। ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দানাজাতীয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিগত ২০১৫ সালে এমডিজির প্রায় সবগুলো লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করি এবং দারিদ্র্যতা ২১ ভাগে নামিয়ে আনি। এটা কোনো জাদুর কাঠিতে হয় নাই। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, কৃষি ও কৃষকের প্রতি তাঁর পরম দরদ ও আন্তরিকতার ফলে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।