🕓 সংবাদ শিরোনাম

টাঙ্গাইলে চুরিকৃত স্বর্ণালঙ্কারসহ আসামি আটকনোয়াখালীতে ২৪ ঘন্টায় ১১৫ জনের দেহে করোনা, শনাক্তের হার ২৮.৬ শতাংশসৌদিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে ১৫ বছরের জেল ও জরিমানার ঘোষণামাদারীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত শ্রমিকলীগ সভাপতির মৃত্যুভয়ংকর হচ্ছে খুলনা বিভাগ, একদিনেই রেকর্ড ৩২ জনের মৃত্যুটাঙ্গাইলে নতুন করে ১৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত, ৩ জনের মৃত্যুইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্সে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা দিলো ব্র্যাক ব্যাংকনওমুসলিম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন-সংবাদ সম্মেলন, ৬ দফা দাবিআ.লীগ অতীতে জনগণের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে : কাদের২৪ ঘন্টায় রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ১৬ জনের মৃত্যু

  • আজ বুধবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৩ জুন, ২০২১ ৷

চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জায়গা দখল, নীরব কতৃপক্ষ

Cox's Bazar news
❏ রবিবার, মে ৩০, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া দরগাহ পাড়ায় চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জায়গায় অবৈধভাবে কয়েকটি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কতৃপক্ষ নিবর থাকায় পাশের জমিগুলোও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নতুন করে ভরাট করা হয়েছে। যার ফলে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে ভাঙ্গা ব্রিজটি স্থানীয়দের কাছে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় যুবক জুনাইদসহ একাধিক ব্যক্তি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন স্পটে গড়ে তুলছেন নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।  অভিযোগ উঠেছে, সওজের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই বেদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি জমি। দখলবাজদের কাছ থেকে জমি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দরগাহপাড়া ভাঙ্গাব্রিজ সংলগ্ন সওজের জমি দখল করে অবৈধ দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্রিজের সাথে লাগোয়া অবশিষ্ট জায়গাটাও বাঁকখালী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালী জুনায়েদ। বালু ভরাটের ফলে বর্তমানে ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে নির্বিঘ্নে যান চলাচল করতে পারছেনা না। এজন্য প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। অবৈধ দখলে থাকা বেশিরভাগ দোকান অস্থায়ী ভিত্তিতে তোলা হলেও জুনায়েদ স্থায়ী পাকা দোকানও তৈরি করেছে। সব দেখেও যেন সওজ কর্মকর্তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় কয়েকশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লিংকরোড থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, স’ মিলসহ নানা ধরনের দোকানপাট। শুধু সড়কের দু’ধারেই নয়, খরুলিয়ার দরগাহপাড়া ভাঙ্গাব্রিজ সংলগ্ন দখল হয়েছে মূল রাস্তার ৩ ফুট পর্যন্ত। এ কারণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতারও সৃষ্টি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সওজ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সড়কের পাশের সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সওজের রাস্তা ও জমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকানের পাশাপাশি ইট-বালু, খোয়া রেখে দখল করা হয়েছে সড়কের জায়গা। দখলদারদের ক্ষমতার দাপটের কাছে অনেকটাই অসহায় সওজের কর্মকর্তারা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তা দখল করে বীরদর্পে চলে ব্যবসা-বাণিজ্য।  এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। দখলদারদের ক্ষমতার দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন তারা। ভাড়ার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের জামানতও।

গাড়ী চালকরা জানান, রাস্তার কয়েক ফুটসহ জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় অনেক স্থানে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাস্তার দু’পাশ দখলমুক্ত থাকলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।

অবৈধ ভাবে সড়ক জনপথ বিভাগের জমি দখল করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে জুনায়েদ দাবী করেন- এগুলো তাদের নিজস্ব জমি। সড়ক জনপথ বিভাগ যদি জমিগুলো ফেরত চায় তাহলে দিয়ে দিবে। এছাড়াও তার দাবীর পক্ষে কোনো প্রমাণপত্র আছে কীনা জানতে চাইলে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হননি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান- কেউ কেউ হয়তো দখল করেছে। কিন্তু নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে করে জমিগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও খরুলিয়া দরগাহ পাড়ার ব্রীজ সংলগ্ন সওজের জমি বেহাত হওয়ার কথাও জেনেছেন বলে নিশ্চত করেছেন তিনি। এবিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নিশ্চত করেছেন প্রতিবেদককে।