🕓 সংবাদ শিরোনাম

আশুলিয়ায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পুলিশের টিয়ার শেল-জলকামান, নিহত ১দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যানেতানিয়াহুর জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড অপেক্ষা করছে: আইনজীবীদক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩শায়েস্তাগঞ্জে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুটিকার ঘাটতি দূর না হলে সামনে বিপদ: জাতিসংঘ মহাসচিববেইজ্জতিতে পড়েছে বিসিবি, ভয়ে ফোন ধরছেন না পাপনএবার ৬০ হাজার সৌদি নাগরিক ও প্রবাসী নিয়ে হজ পালনের ঘোষণাটাঙ্গাইলে করোনায় তিনজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২৩ জনরাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে আরও ১৩ জনের মৃত্যু

  • আজ রবিবার, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৩ জুন, ২০২১ ৷

ছোট-বড় খানাখন্দে, চরম ভোগান্তিতে কেরানীগঞ্জের মানুষ

Keranigonj news
❏ সোমবার, মে ৩১, ২০২১ ঢাকা

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যস্ততম সড়ক জিনজিরা ইউনিয়নের মনু ব্যাপারীর সড়কের ঢাল থেকে বোরহানীবাগ কবরস্থ জিনজিরা হয়ে বোরহানীবাগ কালভার্ট থেকে ভাগনা স্কুল এবং বোরহানীবাগ টাইলস মসজিদ থেকে মুক্তিরবাগ পর্যন্ত রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও পাথর উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে।

প্রায় দু-তিন বছর ধরে এই সড়ক দুটি খানা-খন্দে ভরা। একটু বৃষ্টি হলেই খালে পরিণত হয়। এখানে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম ও লক্ষাধিক লোকের বসবাস।

এছাড়াও ভাংগাচোরা রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরমে ভোগান্তিতে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি।

আশেপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এমন হাল হওয়ার কারণে রিকশা, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ পথচারীসহ সবারই চলতে কষ্ট হয়। প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তবুও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিরা এই প্রতিশ্রুতি দিলেও কমেনি দুর্ভোগ। স্থায়ীভাবে সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অথচ নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তারা। তাদের এমন উদাসীনতার কারণে আমরা জনসাধারণ খুব কষ্টে আছি। এ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে এই পথে আমাদের চলাফেরা করতে হয় প্রতিনিয়ত।

তারা আরো বলেন, সড়কে জমে থাকা ময়লা পানির দুর্গন্ধের কারনে টেকা যায় না। এই ময়লা পানির কারনে আমাদের ছোট ছোট স্কুল-কলেজগামী বাচ্চাদের অনেক সমস্যা হয়। যদিও বর্তমানে স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। অনেক দিন ধরে এই পানিগুলো জমে থাকার কারণে প্রতিনিয়ত মশা ও বিভিন্ন পোঁকার উপদ্রব বেড়ে চলছে। প্রতিদিন বাসায় আসা যাওয়ার সময় এই দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি পারি দিয়ে আসতে হয় ফলে নানান ধরনের চর্ম রোগ বাসা বাধে শরীরে। এমতবস্থায় সড়কটি সংস্কার করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে চান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তাটির সংস্কার না করার কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কে কম-বেশি কাদা-পানি দেখা যায়। তবে এই সড়কটির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সারা বছরই ময়লা-আবর্জনার পানি জমে থাকে। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, প্রতিদিন প্রায় কয়েক’শ গাড়ি ও হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। বর্তমানে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে গাড়ি উল্টে পড়াসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ২-৩ বছর ধরে সড়কটির এই দুরাবস্থা। এই সড়কটি যেন দেখার কেউ নেই।

মোটরসাইকেল আরোহী রাইসুল ইসলাম জানান, এ সড়কটি খারাপ থাকায় একদিকে যেমন বাড়তি সময় লাগছে, অপরদিকে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

অটোরিকশা চালক জাকির নামে একজন বলেন, পেটের দায়ে আটোরিকশা চালাই। পুরো রাস্তা খানাখন্দ ও অসংখ্য গর্ত থাকায় গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যালেন্স রাখতে না পারায় ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন এই সড়কটি আমার ইউনিয়নের খুব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক এটি। বিগত ৩-৪ মাস আগে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। সড়কটির ব্যাপারে আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে বেশ কয়েক বার কথা বলেছি, আশা রাখি দেশের পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সুন্দর একটি সড়ক হবে।

অন্যদিকে জিনজিরা ইউনিয়ন পারিষদের চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শাহীন আহমেদ ও উপজেলা প্রকৌশলী জনাব শাহজাহান মিয়ার সাথে এই সড়কটির বিষয় কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে সড়কটিতে সুয়ারেজ লাইন বসানো হয়েছে। বাকি কাজ খুব দ্রুত শেষ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জনাব শাহজাহান আলী বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ ধরা হবে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে সড়কটি নতুন আঙ্গিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়কে পরিণত হলে এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘব হবে।