পটুয়াখালীর বাউফলে সড়ক ভেঙে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

p road
❏ সোমবার, মে ৩১, ২০২১ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি- ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আর পূর্ণিমার জোঁয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো জোঁয়ারের পানির চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী আলী ইবনে অব্বাস বলেন, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আর পূর্ণিমার জোঁয়ারের প্রভাবে নদ-নদীর পানি ১০ থেকে ১২ ফুট বৃদ্ধি পায়। পানির চাপে নদীর তীরবর্তী চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর, ধুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অভ্যন্তরীণ ১৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা সংস্কারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সরজমিনে দেখা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রাম থেকে কেশবপুর খেয়াঘাট সড়ক পর্যন্ত প্রায় চারটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের পরদিন থেকেই ওই সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ধুলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীর গর্ভে চলে গেছে। এ ছাড়াও রাবাই বাজার থেকে সিকদার বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কেশবপুর ইউনিয়নের কালামিয়া বাজার থেকে মমিনপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের তিন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাদামতলা বাজার-খান বাড়ি সড়কের কালভার্ট ভেঙে গেছে। কেশবপুর কলেজ সড়ক থেকে আকরামিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের পাঁচটি স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চরবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে। সেখানে সড়কগুলো পানির চাপে সড়কের ওপর থেকে বিটুমিন ও পাথর ধুয়ে গেছে। চরওয়াডেল, চররায় সাহেব, চরমিয়াজান, চরফেডারেশন, চরনিমদি এলাকার সড়ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণই নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা একবারেই অকার্যকর।

এদিকে যে সকল ঠিকাদারগণ ২০২০-২০২১ অর্থবছরের গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণে মাটির কাজ করেছেন সেসকল কাজের অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার এসকল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কে বিভিন্ন প্রকান যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন শতাধিক যুবক। এমন কয়েকজন যুবক আসলাম শেখ, জাহিদুল ইসলাম, মোমেন সিকদার, রইস উদ্দিন বলেন, আমাদের আয়ের প্রধান উৎসই মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা, ইজিবাইক চালানো। এসকল সড়ক যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা না হয় তাহলে আমাদের জীবন জীবিকায় বড় ধরণের কুপ্রভাব পড়বে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের মজিবর রহমান নামের ব্যবসায়ী বলেন, তার গ্রাম থেকে নাজিপুর খেয়াখাট পাড় হয়ে বড়ডালিমা গ্রাম দিয়ে কালাইয়া হাটে কৃষি পণ্য নিয়ে যান। কিন্তু সম্প্রতি জোঁয়ারের পানির চাপে এই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় পণ্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের দাবি করেন।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাচ মোল্লা জানান, তার ইউনিয়নে বেড়িবাঁধসহ সড়ক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করে উপজেলা প্রকৗশল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির চাপে সেনিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানির জন্য যে কয়টা টিউবয়েল রয়েছে তা এখনও পানির নীচে। চরের মানুষজন নদীর পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে বেরিবাঁধসহ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান আহম্মেদ বলেন, এ সকল ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা ও অর্থের চাহিদাপত্র করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠনো হয়েছে। কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে চলাচলের উপযোগী করা যায় সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।