সন্তানের মৃত্যুর খবরে অক্সিজেন মাস্ক খুলে মায়ের আত্মহত্যা!


❏ সোমবার, মে ৩১, ২০২১ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত মা জন্ম দিলেন করোনায় আক্রান্ত শিশুর। আর ওই শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে নিজের মুখের হাইফ্লো নজেলের অক্সিজেন মাস্ক খুলে মা নিজেও আত্মহত্যা করলেন। একই সঙ্গে মা ও সন্তানের দাফন হলো। হৃদয় বিদারক এ ঘটনায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি চিকিৎসকরাও।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের করোনা ইউনিটে গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার বিকেলে মা ও সন্তানদের দাফন করে কুমিল্লার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিবেক’।

অক্সিজেন মাস্ক খুলে মারা যাওয়া ওই মায়ের নাম ফারজানা আক্তার (২৭)। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন। সম্প্রতি তারা দেশে এসেছেন।

‘বিবেক’ এর কর্ণধার সমাজসেবক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘করোনাকালে আমরা ১৬০ জনের ওপরে মৃতদেহ দাফন করেছি। এ ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও হৃদয় বিদারক। ঘটনাটি কারও চোখের পানিই আটকাতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের এক ছায়া নেমে আসে। গোটা এলাকা যেন হা-হুতাশের জনপদে পরিণত হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের হরিশাপুর গ্রামের মো. সোহেল পাটোয়ারীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৭ মে থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু মা ফারজানা আক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে শিশুর শরীরেও এর প্রভাব ছিল, যার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের কাছে সন্তানের মৃত্যু সংবাদ শুনে তা সহ্য করতে না পেরে ওই মা নিজের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এরপরই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা টের পেয়ে তাকে আবার মাস্ক পরাতে যান। কিন্তু তিনি মাস্ক পরতে অনীহা প্রকাশ করেন।

ফারাজানা আক্তার এ সময় ডাক্তারদের বলেন, ‘আমার সন্তান যখন বেঁচে নেই তখন আমারও বেঁচে থেকে লাভ নেই।’ ডাক্তাররা জোড়চেষ্টা করেন। তিনি মাস্ক পড়েননি। এ পরিস্থিতি মা ফারজানা আক্তার কিছুক্ষণ পরে নিজেও মৃত্যুবরণ করেন। করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া সদ্যজাত শিশুপুত্র জন্মের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, ‘এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা আমরা আগে কখনো উপলব্ধি করিনি।