🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৫ জুন, ২০২১ ৷

বন বিভাগের মিঠাছড়ি এলাকায় দিনমজুর শুক্কুরই বন কর্মকর্তা!

Cox's Bazar news
❏ মঙ্গলবার, জুন ১, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে তুলাবাগান ও পানেরছড়া বিট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিট অফিসের কর্মচারী চেইন্দা লম্বাঘোনা এলাকার আব্দুন নবীর পুত্র আব্দু শুক্কুর (৪৭)।

তিনি অবশ্য কারো ধার ধারেনা, কথায়-কথায় তিনি বিট কর্মকর্তাদের নামের দোহাই দিয়ে নিজেকে বিট অফিসের বড় কর্মকর্তা দাবী করেন। এই নামকে পুঁজি করেই তিনি অনৈতিক কর্মকান্ডসহ নানা রকম অপকর্ম করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। উৎকুচ আর নজরানা ছাড়া তিনি কাউকে কোন কাজই করতে দেন না ওই এলাকায়। সাধারণ মানুষের বসতভিটা থেকে শুরু করে সর্বত্রই তিনি উৎকুচ নিয়ে থাকেন সমাল তালে।

সোমবার (৩১ মে) সরেজমিনে লম্বাঘোনা এলাকায় গেলে জুবাইদা, সোহেল, ফয়সাল, জুবাইর ও কামাল হোসেনসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, তারা প্রত্যেকের বাড়ী সংস্কার করতে গেলে নানা অজুহাতের আইন দেখিয়ে বাঁধা প্রয়োগ করেন এই বিট অফিসের কর্মচারী শুক্কুর। পরে প্রত্যেকে তাকে ২ থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকুচ দিয়ে কাজ করে নিয়েছেন।

মুফিজ নামের একজন জানান, তিনি তার বাড়ির কিছু লাকড়ী কাটছিলেন, একই ভাবে ঐ শুক্কুর তার গাছ আটকিয়ে ১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়েদেন। এভাবে শত-শত অভিযোগ উঠেছে বিট অফিসের দিন মজুর আব্দু শুক্কুরের বিরুদ্ধে।

শুধু তা নয়, বনবিভাগের বিট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের কাছ থেকে আব্দু শুক্কুর বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদেরকে এই কর্মচারী হুমকি দেন তিনি বিট কর্মকর্তাদের খুব কাছের লোক।

তিনি তাদেরকে আশ্বস্থও করেন টাকা দিলে বনবিভাগের জায়গায় ঘর করার অনুমোদন এনে দিতে পারবেন। একই ভাবে তিনি বিট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই এলাকার বনবিভাগের গাছ কেটে উজার করে ফেলছেন। তার অর্থলোভে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল বিলিন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

জানা যায়, বিট কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ে শুক্কুর তার বিশ্বস্থ লোকদের দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তার নিয়ন্ত্রনে থাকা বড়-বড় গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যেই এসব গাছ বিভিন্ন ব্যক্তিসহ করাত মিলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গাছের মুড়োগুলো (মুল) এখনো তার সাক্ষ্য বহন করছে। কোন কোন মুড়ো (মুল) বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাহাতে মানুষের চুখে ধুলা দেওয়া যায়।  এছাড়াও যে কেউ ঘর করতে চাইলে তার কাছ থেকে গাছ কিনতে হবে চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে বনের গাছ বিক্রি করা যায়।

স্থানীয় কামাল হোসেন জানান, বন-কর্মকর্তার লোক নামে পরিচিত শুক্কুর তার দলবল নিয়ে বনের বড় বড় গাছগুলো কাটে নিয়ে গেছেন। এছাড়াও পাহাড়ী টিলাগুলো বিক্রি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার দাবী, শুক্কুর বিট কর্মকতার যোগসাজসে এভাবেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বনের গাছগুলো কেটে বিক্রি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এভাবে প্রায় প্রতিদিন দু-চারটি করে দামী কেটে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে। বন কর্মকর্তার লোক হিসাবে পরিচিত শুক্কুরের চাঁদাবাজি ও কাছে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা সুহেল রানা ও  ফসিউল আলম শুভ জানিয়েছেন, শুক্কুর তাদের অধীনে দৈনিক ৫ শত টাকার বিনিময়ে নার্সারি দেখভাল করেন। চাঁদাবাজির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তাদের দাবী, শুক্কুরের বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অভিযোগের বিষয়ে তারা দ্রুত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।