🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

বৃষ্টিতে ডুবেছে ঢাকা

water
❏ মঙ্গলবার, জুন ১, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি। নগরীড় বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমেছে। রিকশা ও গাড়ির চাকা অর্ধেকের বেশি ডুবে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টি আরও হতে পারে।

বৃষ্টিতে রাজধানীর অফিসগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। অনেকেই বেশি ভাড়া দিয়ে অফিসে আসেন। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় অফিস যেতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা এ বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে ঢাকায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত অবশ্য এবার হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। সেখানে রেকর্ড হয়েছে এক দিনে ১০৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমন অবস্থা আরও এক থেকে দুই দিন থাকবে। মৌসুমি বায়ুর এখনও প্রবেশ ঘটেনি। তবে টেকনাফ উপকূলে মৌসুমি বায়ু ও পূবালী বাতাসের সংযোগে এই বৃষ্টি। এটাকে সরাসরি মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বলা যাবে না। সেটি আসতে আরও কিছুদিন দেরি হবে।

নগরের এই স্বস্তির বৃষ্টি অস্বস্তিতে পরিণত করেছে রাজধানীবাসীকে। ঘুম ভেঙে বাড়ির দোরগোড়ায় হাঁটুপানি নিয়ে কাজে যেতে হয়েছে। ভোর থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। একটু পর পর মেঘের গর্জন শোনা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি।

প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। বৃষ্টি হলেই নগরীর অলিগলি ও ছোট পরিসরের রাস্তাগুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় দ্রুত পানি নামতে না পারায় প্রতিবারই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই মতিঝিল, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, মালিবাগ, রামপুরা, পুরান ঢাকা, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া বছর ঘুরে নিয়মিত চিত্র।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টিতে রাজধানীর গুলশান বাড্ডা লিংকরোড, বৈশাখী সরণির সামনের সড়কেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে এর মধ্যে দিয়ে যখন যানবাহন চলছে তখন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে ঢেউ এসে পড়ছে ফুটপাতে। তাতে ভিজে যাচ্ছে পথচারীদের শরীর, জামা-কাপড়।

হাবিবুর রহমান নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জলাবদ্ধতার মধ্যেই ছাতা মাথায় নিয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন। তিনি বলেন, মহাখালী অফিসে যাব, কিন্তু গণপরিবহন কম তাই হেঁটেই সামনের দিকে এগোতে শুরু করেছি। কিন্তু সড়কেও জলাবদ্ধতা, হাঁটাও যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতার কারণে এর মধ্য দিয়ে যখন গণপরিবহন চলছে তখন ফুটপাতেও ঢেউ এসে পড়ছে, জামা-কাপড়ও ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু অফিসে তো যেতে হবে, তাই এরমধ্যেই বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে।

সুলতান আহমেদ নামে এক পথচারী বলেন, প্রতিবছরই বৃষ্টি হলে রাজধানীতে এমন জলাবদ্ধতা হয়। সাধারণ মানুষ পড়ে ভোগান্তিতে। কিন্তু এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। যার মাশুল দিতে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের। যারা আজ কাজে বের হয়েছেন তাদের প্রত্যেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও হাঁটু পানি, কোথায় গণপরিবহন সংকট সব মিলিয়ে ভোগান্তি যেন সাধারণ মানুষের। এছাড়া বৃষ্টি জলাবদ্ধতার মধ্যে যেসব মানুষ কর্মক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন এমন সুযোগ বুঝে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকছেন।