বেগম জিয়াকে নিয়ে বেশি কথা বলবেন না: তথ্যমন্ত্রীকে মির্জা ফখরুল


❏ বুধবার, জুন ২, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের লজ্জা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২ জুন) ঢাকা জজ কোর্টে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা দেয়া হয়েছে, সেটা টেকেই না। এই মামলার যেদিন চার্জ গঠন করার সময় ছিলো, সেদিনই সেটা নিষ্পত্তি করা যেতো। কিন্তু সেটাতে সরকার অবৈধভাবে বাধা দিয়েছে। এভাবে সরকারের ইচ্ছামতো ফরমায়েশি রায় ইতিহাসে নেই। এর ফলে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়া অন্যায়ভাবে কারাবরণ করছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা বলছেন তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। আমরা যখন এ কথাগুলো বলছি, সরকার এসব নাকচ করে দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারে একজন তথ্যমন্ত্রী আছেন। তার দাবি, আমরা নাকি বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করছি। তার লজ্জা হওয়া উচিত। আমি আবারও বলছি, খালেদা জিয়া সম্পর্কে কখনও বেশি কথা বলবেন না। দেশের মানুষ এটা ভালোভাবে গ্রহণ করবে না। আপনি যেখানে আছেন সেখানে থাকুন। খালেদা জিয়ার নাগাল পেতে হলে আপনাকে বহুদূর যেতে হবে। যেটা আপনাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

জিয়াউর রহমানের সবকিছু মুছে ফেলার জন্য আওয়ামী লীগ ইতিহাসকে বার বার বিকৃত করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের কালো রাতে গোটা জাতি যখন অপেক্ষা করছিল যে একটা রাজনৈতিক দল থেকে কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা সে নির্দেশ তারা পায়নি। ওই সময় আমাদের মূল নেতা (শেখ মুজিবুর রহমান) যিনি ছিলেন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অন্য অনেক রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সেই সময় অখ্যাত এক মেজর সামনে এসে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। যেটা সবারই জানা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে মানুষের যে আশা আকাঙ্ক্ষা সেটা আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গিয়ে এবং অবহেলা করে তাদের দলীয় লোকদের দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। সারাদেশে তারা লুটপাটের রাজত্ব সৃষ্টি করে। আমাদের যেসব অর্জন ছিল সেগুলো তারা ধূলিসাৎ করে দেয়। আমাদের সংবিধানে মানুষের যে মৌলিক বিষয়গুলো ছিল তা বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা শুরু করে। তখন অনেকেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তাদের দমন করার জন্য রক্ষীবাহিনী তৈরি করেন। সে বাহিনী দিয়ে নির্মমভাবে বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছিল।

আজকে বিচার ব্যবস্থা একটা দলের হাতে চলে গেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যা চায় বিচার তাই হয়। আমরা যারা রাজনীতি করি বা যারা সাধারণ মানুষ আছেন তারা সবাই সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।