করোনাকালে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতি সদয় গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

gb
❏ বৃহস্পতিবার, জুন ৩, ২০২১ শিক্ষাঙ্গন

ধীরা ঢালী, গবি সংবাদদাতা: করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাটাই, আংশিক কিংবা পুরোপুরি বেতন কর্তনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য নানা সুবিধাদি স্থগিতের কথাও শোনা গেছে। তবে করোনায় এসব সুবিধা পুরোপুরি অব্যাহত রেখে ব্যতিক্রমতার পরিচয় দিয়েছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, গবি প্রশাসন এই মহামারীতে পূর্বের মতই শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করেছে। এ সময়ে করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে ছাটাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন বিভিন্ন সুবিধাদি স্থগিত বা বাতিলের অভিযোগ শোনা গেছে, তখন গবিতে ৬০ জনের অধিক শিক্ষকের পদোন্নতি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে পূর্ণকালীন বেশকিছু শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

করোনাকালীন সংকটে প্রশাসনের এমন ইতিবাচক ভূমিকায় সন্তুষ্ট শিক্ষকেরা। সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) শহীদ মল্লিক বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই একাডেমিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য বিষয়গুলিতে তার ব্যতিক্রমধর্মী স্বতন্ত্রতা ধরে রেখেছে, এই করোনাকালীন সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এই করোনাকালীন সময়ে দেশের অন্যান্য অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেখানে তার শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটা বড় অংশকে সাময়িক ছুটিতে রেখেছে বা বেতন কমিয়েছে সেখানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা, এখানে কাউকেই তার কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটিতে রাখা বা কম বেতনে রাখা হয়নি বরং অনেক শিক্ষকের প্রমোশন হয়েছে।

এমনকি করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে সে বিষয় মাথায় রেখে অনেক নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবং এর সব কিছুই করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ভালোর কথা মাথায় রেখেই। এই দুর্যোগকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ তো অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

সার্বিক বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বলেন, আমরা বরাবরই শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্বশীল। এই কঠিন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রিজার্ভ ফান্ড থেকে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন প্রদান করেছেন। এমনকি প্রমোশনসহ বেতন বৃদ্ধিও করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও তদারকি কমিটির সভাপতি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বরাবরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরাসরি তত্ত্বাবধান করে থাকেন, তাঁর এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাবই এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন ইতিবাচক পদক্ষেপে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন মো. করম নেওয়াজ বলেন, এই কার্যক্রম অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের ইতিবাচকভাবে আলাদা করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আর প্রশাসন আমাদেরকে মূল্যায়ন করেছে। এক্ষেত্রে তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

করোনার শুরুতে শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল রাখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন মাত্র চার-পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে, তখনই আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম।শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অনলাইনের নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সফলভাবে সবকিছু এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।