দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি দিলো বাংলাদেশ

china-vaccine
❏ শনিবার, জুন ৫, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে বাংলাদেশের পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই দাম চীন গোপন রাখতে চেয়েছিল। ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ এই দাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বেইজিংকে একটি চিঠি দিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া টিকার দাম জনসমক্ষে প্রকাশ করার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহীনা আকতারকে তার পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে টিকার চাহিদাপত্র পাওয়ার পর বাণিজ্যিক স্বার্থে টিকার দাম যেন কোনোভাবে প্রকাশ করা না হয়, সে বিষয়টি চীন বলে দেয়। তবে টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চীন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে।

এ কারণে ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেয়া দিয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা ও দ্রুত টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য চীনকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে, যদিও চিঠির উত্তর মেলেনি এখনও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেয়া দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেইজিংকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বেইজিংয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে টিকার দাম প্রকাশ করা হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চীন থেকে সিনোফার্মের করোনা টিকার দেড় কোটি ডোজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়। সরকার এই টিকার প্রতি ডোজ ১০ ডলারে কিনতে যাচ্ছে বলে বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান যে, ওই দাম এখনো অনুমোদন পায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তবে, এ ঘটনায় আমাদের অবস্থান বেশ খানিকটা খারাপ হয়েছে।’

তিনি জানান, ভবিষ্যতে সরকার আর ওই দামে টিকা কিনতে পারবে না।

মোমেন বলেন, ‘তারা অন্য দেশে যে দামে টিকা বিক্রি করে, সে দামেই কিনতে হবে। তা দ্বিগুণ বা তিন গুণ হতে পারে।’

পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) ঢাকায় চীনা দূতাবাসকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমক্ষে দাম প্রকাশ করিনি। তবে, কোনোভাবে তা প্রকাশিত হয়েছে। আমরা তাদের চিঠি দিয়েছি। কিন্তু, তারা এখনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।’

অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘চীন প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন শ্রীলঙ্কার কাছে ১৪ ডলার ও ইন্দোনেশিয়ার কাছে ১৭ ডলারে বিক্রি করছে।’

‘বাংলাদেশে সিনোফার্মের বিক্রয়মূল্য জানার পর, সেসব দেশ চীনকে কম দামে ভ্যাকসিন বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছে। তারা (চীন) আমাদের ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।