কক্সবাজার থেকে রওনা, ১১৩ দিন সাগরে ভেসে যেভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ৮১ রোহিঙ্গা

Rohingya
❏ শনিবার, জুন ৫, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- গত ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েক ডজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করে ছোট একটি নৌকা। তারপর দীর্ঘ প্রায় চার মাস সাগরে আটকে থাকার পর ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে পৌঁছেছে ৮১ রোহিঙ্গাকে বহনকারী নৌকা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আশায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার থেকে নৌকায় চড়ে রওনা দেয় ৯০ রোহিঙ্গার দলটি। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রোহিঙ্গা সংকট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ইদামান দ্বীপে ৮১ রোহিঙ্গা পৌঁছেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত তারা পুরোপুরি নিরাপদে আছে। আশা করি তাদের আবার সাগরে ঠেলে দেয়া হবে না।’

ইন্দোনেশিয়ায় তাদের আশ্রয় দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি জাকার্তা।

বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার নেয়নি

কক্সবাজার থেকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রওনা দেয়ার চার দিন পর নৌকাটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ওই অবস্থায় প্রায় দুই সপ্তাহ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ছাড়াই সাগরে ভেসে ছিল আরোহীরা। বেশিরভাগ আরোহী কোনোরকমে বেঁচে থাকলেও মারা যায় আটজন।

আন্দামান সাগরে হারিয়ে যাওয়ার পর নৌকাটির যাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এরপর ওই শরণার্থীদের সাহায্য করতে ভারতীয় কোস্টগার্ডের দুটি জাহাজ আন্দামান সাগরে পাঠানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আন্দামান সাগরেই ভাসমান নৌকা থেকে ৮১ রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নৌকা থেকে আটজন রোহিঙ্গার মরদেহও পায় ভারতীয় কোস্টগার্ড।

জীবিতদের খাদ্য, ওষুধ, বস্ত্রসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা দেয়া হলেও ভারতে নামার অনুমতি দেয়া হয়নি। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সে সময় ঢাকার সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারেই ফেরত পাঠানো উচিত। তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য নয় বাংলাদেশ সরকার।

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তারা মিয়ানমারের নাগরিক। যে জায়গা থেকে এই ৮১ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা থেকে ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে।

‘অথচ ভারতের সীমানা থেকে মাত্র ১৪৭ কিলোমিটার আর মিয়ানমার থেকে ৩২৪ কিলোমিটার দূরে ভাসছিল তারা। কাজেই তাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ বাধ্য নয়; বরং অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচিত তাদের দায়িত্ব নেয়া।’

এরপর তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য গত তিন মাসে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার সরকারকে অসংখ্যবার অনুরোধ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও তাদের স্বজনরা।

রোহিঙ্গা এমন একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাদের বেশিরভাগকেই বৌদ্ধ ধর্মপ্রধান মিয়ানমার নাগরিকত্ব দিতে রাজি হয়নি। তারা রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে গণ্য করে।

বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বাস করছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে বিশেষ সেনা অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

মানব পাচারকারীরা প্রায়ই মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজের লোভ দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের ছোট নৌকায় করে বিপজ্জনক যাত্রার দিকে ঠেলে দেয়।