🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৬ জুন, ২০২১ ৷

টাঙ্গাইলে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাদরাসা ছাত্রী: মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

atok
❏ রবিবার, জুন ৬, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের কারণে বর্তমানে ছাত্রীটি পাঁচ মাসের অত্বঃসত্বা বলে দাবী অভিভাবকের। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের গারট্র উত্তরপাড়া গ্রামে।

এ ব্যপারে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

মামলার অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের গারট্র উত্তরপাড়া গ্রামের মসজিদের ইমাম কেরামত আলী (৬০)। তার গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার আইনাতকারী গ্রামে। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে গ্রামে যাতায়াতের কারণে গ্রামবাসীর সাথে তার স্বক্ষতা গড়ে ওঠে। সেই সুবাধে দুই বছর আগে মসজিদ কমিটি তাকে মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপশি মসজিদে মক্তব স্থাপন করে প্রতিদিন সকালে গ্রামের ছেলে মেয়েদের কোরআন শিক্ষা দিতেন। ওই মক্তবে কোরআন শিক্ষার জন্য যেতেন স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে। গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ করে ইমাম কেরামত আলী মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়ে সকলের কাছে বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে যান। গত তিনদিন আগে ছাত্রীটির বাবা-মাসহ বাড়ির লোকজন মেয়ের শারিরীক অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ে সব ঘটনা তার বাবা-মা’র কাছে খুলে বলে।

মেয়েটি জানায়, পাঁচ মাস আগে মক্তবে কোরআন পড়া শেষ হলে অন্যরা বাড়ি চলে গেলেও কথা আছে বলে তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে। পরে মুখ বেঁধে মসজিদের বাড়ান্দায় ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। এভাবে নানা লোভ দেখিয়ে কয়েকদিন ধর্ষণ করে।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হবার পর গত (৪ জুন) ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে ইমাম কেরামত আলীকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই কেরামতকে তার শ্বশুরবাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ওয়াহেদ আলী বলেন, এরকম ঘটনা ঘটাতে পারে তার আচার আচরণে কখনো মনে হয়নি। আমরা উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মেমরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, অভিযুক্ত ইমাম কেরামত আলীকে গত ৫ জুন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।