টাঙ্গাইলে ভাড়াটে খুনি দিয়ে ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে হত্যা, স্ত্রীসহ গ্রেফতার-৩

Tangail Arrest pic
❏ রবিবার, জুন ৬, ২০২১ ঢাকা

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ক্লিনিক ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানকে ভাড়াটে খুটি দিয়ে হত্যা করান তার স্ত্রী। হত্যায় অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছেন। পরে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) আনিসুরের স্ত্রী মুরছেনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে। মুরছেনা বেগমকে রবিবার (৬ জুন) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি।

বিষয়টি বিকেলে টাঙ্গাইল সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (৫ জুন) রাতে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গত বছর ১৭ নভেম্বর দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের হেরেম্বপাড়ার আনিসুর রহমানের (৫০) বস্তাবন্দি লাশ তার গ্রামের খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি লাউহাটি বাজারের জনসেবা ক্লিনিকের মালিক ছিলেন। ঘটনার পরদিন তার মেয়ে মারুফা আক্তার বাদি হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। প্রথমে দেলদুয়ার থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করেন। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি পুলিশকে।

টাঙ্গাইল সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিন জানান, মামলাটি পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে হত্যায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানা যায়। গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে গাজীপুরের টুঙ্গি বাজার এলাকা থেকে রিপন খানকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তিনি লাউহাটি গ্রামের হেলাল খানের ছেলে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ওই রাতেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রাম থেকে আব্দুস সেলিম খান (৬০) নামে অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাকিম খানের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. সুজন মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজনেই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আনিসুরকে হত্যা করার জন্য তার স্ত্রী মুরছেনা বেগম তাদের ভাড়া করেছিলো বলে সিআইডি পুলিশকে জানান। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিতেও রাজি হন। পরে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুজনকে টাঙ্গাইল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান সেলিম খানের এবং ফারজানা হাসানাত রিপন খানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।