• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

বাসযোগ্য ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকা ১৩৭তম

road
❏ বুধবার, জুন ৯, ২০২১ আন্তর্জাতিক, ফিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের নতুন র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। এই তালিকার শেষ দিক থেকে চার নম্বর স্থানে রয়েছে ঢাকা। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৪০টি শহরের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকায় ১৩৭ নম্বরে রয়েছে ঢাকা।

এর আগে ২০১৯ সালে এই সূচকে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৮তম এবং তার আগের বছর ২০১৮ সালে ঢাকা অবস্থান করছিল ১৩৯তম স্থানে।

নতুন এ জরিপ অনুসারে ২০২১ সালে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপানের ওসাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, বসবাসযোগ্য শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুটি, জাপানের দুটি, অস্ট্রেলিয়ার চারটি ও সুইজাল্যান্ডের দুটি রয়েছে।

বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থান রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন ও জাপানের টোকিও শহর। একই নম্বর পেয়েছে এই দুই শহর। ষষ্ঠ অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ। সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যানন্ডের জুরিখ, জেনেভা এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বসবাসযোগ্য শহরের ক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা এ তালিকায় শীর্ষে ছিল ২০১৮ সাল থেকে। কিন্তু এবার শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে স্থান পায়নি ভিয়েনা। ২০১৯ সালে ভিয়েনার সঙ্গে একই পয়েন্টে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। সেই মেলবোর্ন এবার আট নম্বরে নেমে এসেছে।

স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো এই ৫ টি ক্যাটগরির ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর বিশ্বের ১৪০ টি প্রধান শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে থাকে ইআইইউ। গত বছর করোনা মহামারি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন জারি থাকায় জরিপের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি ইআইইউ, এ কারণে ২০২০ সালে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।

বিভিন্ন দেশে চলা বৈশ্বিক প্রকল্প, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সংস্থাটি। সেই অনুযায়ী, চলতি বছর এই ৫ ক্যাটাগরির মধ্যে স্থিতিশীলতায় ৫৫ পয়েন্ট, স্বাস্থ্যসেবায় ১৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট, সংস্কিতি ও পরিবেশগত অবস্থায় ৩০ দশমিক ৮ পয়েন্ট, শিক্ষা ক্যাটাগরিতে ৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট ও অবকাঠামো ক্যাটগরিতে ২৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট পেয়েছে ঢাকা।

২০১৯ সালে ৫ ক্যাটাগরির মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকার প্রাপ্ত পয়েন্ট ছিল ৫৫, স্বাস্থ্যসেবায় ২৯ দশমিক ২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০ দশমিক ৫, শিক্ষায় ৪১ দশমিক ৭ এবং অবকাঠামোতে ২৬ দশমিক ৮।

তার আগের বছর ২০১৮ সালে স্থিতিশীলতায় ৫৫ পয়েন্ট, স্বাস্থ্যসেবায় ২৯ দশমিক ২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০ দশমিক ৫, শিক্ষায় ৪১ দশমিক ৭ এবং অবকাঠামোগত অবস্থায় ২৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট পেয়েছিল ঢাকা।

ইআইইউ-এর চলতি বছরের সূচকে ঢাকার পাশে অবস্থানকারী উপমহাদেশের একমাত্র শহরটির নাম করাচি। চলতি বছর পাকিস্তানের সাবেক রাজধানী ও প্রধান এই শহরটি ১৩৪তম অবস্থানে আছে। এই তালিকার সর্বনিম্ন বা ১৪০ তম শহরটি হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক।

বাসযোগ্য শীর্ষ ১০টি শহরের তালিকা

১. অকল্যান্ড (নিউজিল্যান্ড)
২. ওসাকা (জাপান)
৩. অ্যাডিলেড (অস্ট্রেলিয়া)
৪. ওয়েলিংটন (নিউজিল্যান্ড)
৫. টোকিও (জাপান)
৬. পার্থ (অস্ট্রেলিয়া)
৭. জুরিখ (সুইজারল্যান্ড)
৮. জেনেভার (সুইজারল্যান্ড)
৯. মেলবোর্ন (অস্ট্রেলিয়া)
১০. ব্রিসবেন (অস্ট্রেলিয়া)

বাসযোগ্যতায় সর্বনিম্ন ১০টি শহরের তালিকা

১৩১. কারাকাস (ভেনিজুয়েলা)
১৩২. দৌয়ালা (ক্যামেরুন)
১৩৩. হারারে (জিম্বাবুয়ে)
১৩৪. করাচি (পাকিস্তান)
১৩৫. ত্রিপোলি (লিবিয়া)
১৩৬. আলজিয়ার্স (আলজেরিয়া)
১৩৭. ঢাকা (বাংলাদেশ)
১৩৮. পোর্ট মোরেসবি (পাপুয়া নিউ গিনি)
১৩৯. লাগোস (নাইজেরিয়া)
১৪০. দামেস্ক (সিরিয়া)