• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কেরানীগঞ্জে

corona
❏ শনিবার, জুন ১২, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ- সারাদেশে করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পট হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনাসহ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলা। ভারতের সীমান্তবর্তী ১৫ জেলার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ লকডাউন কার্যকর করার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

আতঙ্ক বাড়ছে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন (ভারত ভ্যারিয়েন্ট) নিয়ে। দ্রুত সংক্রমণশীল করোনার এই ভ্যারিয়েন্টটির সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট ঝুঁকিতে রয়েছে কেরানীগঞ্জ। এটি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকার সবচেয়ে কাছের উপজেলা হওয়াতে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত অনেক ভাসমান জনসাধারণের বসবাস রয়েছে কেরানীগঞ্জে। কেরানীগঞ্জের জনসংখ্যা প্রায় ২২ লাখের মতো। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের আগানগর গার্মেন্টসপল্লী এলাকায় রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখের মতো শ্রমিক। জিনজিরা তাওয়াপট্টী এলাকায় রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক।

জানা যায়, কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন কল-কারখানা ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছে। ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির পর কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টসপল্লী ও জিনজিরা তাওয়াপট্টির কারখানাগুলো খুলতে শুরু করেছে। চালু হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কল-কারখানার কাজ।

আগানগর গার্মেন্টস-পল্লীতে উত্তরবঙ্গের চাপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, চিতলমারী, পঞ্চগড়, দিনাজপুরের শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও অন্যান্য জেলার লোকজনও আছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে থাকার পরে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকেরা আসতে শুরু করেছে।

তবে এদের কারোই করোনা টেস্ট করানো হয়নি। কেউ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এখানে এসেছে কিনা তাও খুঁজে পাওয়ারও কোনো উপায় নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে এক একটি কারখানায় একসঙ্গে ২০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করে। কোনো কোনো কারখানায় আরো বেশি শ্রমিক ও কাজ করে থাকে। কোনো শ্রমিক যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখানে কাজ করতে আসে, তাহলে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে অন্যদের মাঝে।

জিনজিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ডা. হাবিব রহমান বলেন, কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজনের যাতায়াত রয়েছে। সুতরাং ঝুঁকিতো আছেই। বরং অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে কেরানীগঞ্জে ঝুঁকি আরো বেশি শুধু ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট না সব ভ্যারিয়েন্টের জন্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে কেরানীগঞ্জের বাজার, যাতায়াতের রাস্তা কিংবা কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। বিশেষ করে, যাতায়াতের রাস্তাগুলোতে কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। এগুলো দেখারও যেন কেউ নাই।

জিনজিরা তাওয়াপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আক্তার জিলানী খোকন বলেন, আমাদের এখানে অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ, যেসব কারখানা খোলা আছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা পরিচালনা করা হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ঈদের পরে দূর-দূরান্তের লোকজন কম আসছে, তারা অনলাইনেই অর্ডার করছে। আর ঈদে অনেক শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে যায়নি, তাদের কারখানায় থেকে গিয়েছিল। করোনা মোকাবেলায় আমরা প্রতিদিন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং করছি এবং গার্মেন্টস পল্লীতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি-না, তা নিজেরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৬৫৪ জন। প্রতিদিন কেরানীগঞ্জে গড়ে ৩০ জনের করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত ৭ দিনে মাত্র ৫ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। গত ১৫ দিনে ভারত থেকে ফিরে কোয়ারেন্টিন মেইনটেইন না করেই কেরানীগঞ্জে চলে এসেছে এমন দুজনের সন্ধান আমরা পেয়েছি।

তাদের শনাক্ত করে তাদের পুরো পরিবারের টেস্ট করানো হয়েছে। কিন্তু কারোই করোনা পজিটিভ আসেনি। এখন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আশেপাশের কেউ ভারত থেকে আসলে অবশ্যই তা আমাদের ইনফর্ম করে তার করোনা টেস্ট নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের পরীক্ষা করার সামর্থ্য রয়েছে, বাকিটা জনগণকে সাহায্য করতে হবে। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কভিড ডেডিকেটেড হসপিটাল আছে। কারো ভীত হওয়া উচিত না। কেউ যদি মনে করে তার টেস্ট করানো দরকার, তাহলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই মাত্র ১০০ টাকায় এখানে এসে টেস্ট করাতে পারে। আমার যদি কভিড হয়, সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব, তাই সবাইকে নিরাপদ রাখতে করোনাকে ভয় না পেয়ে টেস্ট করানো উচিত।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জে এখনো ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আপাতত বলা যায়, কেরানীগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা জনগণকে মানানোর জন্য আমরা সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। করোনা মোকাবেলায় সরকারের সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। সবারই উচিত মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মানা। আর কেউ যদি ভারত থেকে এসে তথ্য লুকাতে চায়, তাহলে আশেপাশের মানুষদের উচিত তা প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন